বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দেবে বাংলাদেশ। হুট করে এটা হবে না। যৌক্তিক সময়ে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উত্তরণ হবে বাংলাদেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে।
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের আলোচনার সূচনা শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করার প্রক্রিয়া হুট করে বাস্তবায়ন করবে না সরকার। সময় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বাচ্ছন্দ্যে উত্তরণ করা যায় এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বিষয়টি দেখা হবে।
ড. সালেউদ্দিন বলেন, যত বেশি দেশের সঙ্গে সম্ভব, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করবে সরকার। বিশেষ করে জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ভারতের সঙ্গে চুক্তি করব। এ ছাড়া আসিয়ানে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমরা মালয়েশিয়ার সঙ্গেও কাজ করব।
ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য নিয়ে সবসময়ই উদ্বিগ্ন থাকে। তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দরকার, এ বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে যোগ করেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। পণ্য ছাড়াও সেবা ও বিনিয়োগ খাতেও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দুদেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ করে চট্টগ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালে সিঙ্গাপুরের শিপিং কোম্পানি পিএসএ বিনিয়োগ করছে, বে-টার্মিনাল ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে এ আন্তর্জাতিক বৃহৎ বন্দরে উপনীত হবে। এ সূত্রে দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়-সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন বক্তব্য দেন।
এর আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সচিবালয়ে তার অফিসে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে পণ্য রপ্তানিকালে শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা হারানো অন্যতম।
এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে এসব দেশের বাজারে প্রবেশের সময় সাধারণভাবে আরোপিও শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে। ফলে এসব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
