অটো শিমে ভরে গেছে মাঠ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫৩ এএম

ঈশ্বরদীতে আগাম জাতের অটো শিমে ভরে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। শিমের ফুল ও শিম পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া, বড়াইগ্রাম ও লালপুর উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ শিম চাষের সঙ্গে জড়িত। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শিম চাষ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

ঈশ্বরদীর মুলাডুলিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যেদিকে তাকানো যায় সেদিকেই শুধু শিম চাষের  ক্ষেত। ইতিমধ্যেই আগাম জাতের অটো শিম বাজারে উঠেছে। খরচের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা খুুশি।

অন্যদিকে ক্রেতা-বিক্রেতারাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। উত্তরাঞ্চলের সুপরিচিত ঈশ্বরদীর মুলাডুলি সবজি আড়ত। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার শিম কেনাবেচা হচ্ছে।  প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। সরেজমিনে মুলাডুলি শিমের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, আড়তের পুরো জায়গায় ক্রয়কৃত শিম স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

মুলাডুলি শিমের আড়ত বসে সপ্তাহে সাত দিনই। হাটের আড়তদার-সহ সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন এই হাট থেকে ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক শিম বাজারজাত করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। শিম চাষ যে একটি এলাকার মানুষের ভাগ্য বদল করে দিতে পারে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি তার উদাহরণ। এই আড়ত থেকে প্রতি ট্রাকে প্রায় ১০ লাখ টাকার শিম বাজারজাত করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। আড়তে প্রতি কেজি শিম ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে অর্থাৎ প্রতি মণ শিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০ থেকে ৪০০০ টাকায়।

মুলাডুলি ইউনিয়নের বাঘহাছলা গ্রামের শিমচাষি ওয়াসিম উদ্দিন জানান, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও এখন বেশ ভালো আবহাওয়া। এজন্য শিমের উৎপাদন বেশ ভালো হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে শিমের দামও অনেক ভালো। এতে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।’

মুলাডুলি আড়তের আড়তদার আমিনুর রহমান বাবু জানান, শিমের মৌসুম হওয়ায় ঈশ্বরদী ও এর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে চাষিরা তাদের শিম বিক্রির জন্য এই আড়তে নিয়ে আসেন। এছাড়াও শিম কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীরাও আসেন এই আড়তে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, এ বছর ঈশ্বরদীতে ১২৯০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে শিমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ মেট্রিক টন। সব মিলিতে ঈশ্বরদীতে ৩০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মৌসুম শুরুর দিকে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও বর্তমানে আবহাওয়া বেশ ভালো। এজন্য ফলনও অনেক ভালো হচ্ছে। পাশাপাশি দামও ভালো পাচ্ছেন এই অঞ্চলের কৃষক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত