টানা ৩ দিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক শ্রমিকেরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪, ০১:২৩ পিএম

গাজীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চলছে শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচি। তিনদিন ধরে চলা অবরোধ নিরসনে পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনীরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বারবার চেষ্টা করেও এর সমাধান করতে পারছে না।

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর মোগরখাল এলাকায় টিএন্ডজেড গ্রুপের ছয়টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত শনিবার সকাল থেকে টানা তিনদিন ধরে ব্যস্ততম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা সড়ক অবরোধ করে রাখেছেন।

আজ সোমবার সকালে মোগরখাল এলাকায় গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রবিবার পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন এসে তাদের বেতন পরিশোধ করার জন্য সাত দিনের সময় চেয়েছিল। কিন্তু তারা সেটা মানেননি। কারণ গত প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন সময় অনেক তারিখ দিয়েও মালিক এবং প্রশাসন তাদের কথা রাখতে পারেনি। তাই তারা কোন কথাতেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনদিন ধরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলেও কোনো শ্রমিক কোনো যানবাহন ভাঙচুর বা ক্ষতিসাধনে অংশ নেয়নি। তাদের দাবি আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব।

এদিকে শ্রমিক অবরোধের কারণে তৃতীয় দিনের মতো গাজীপুর থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার গণপরিবহনের যাত্রী, শ্রমিক, কর্মচারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। দেশের দূরদূরান্ত থেকে আশা সাধারণ মানুষ গাজীপুর চন্দনা চৌরাস্তায় নেমে হেঁটে অথবা বিকল্প পথ দিয়ে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করতে হচ্ছে। আর ঢাকা থেকে যে সকল মানুষ উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তারা বিকল্প পথ দিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা ও চন্দ্রা হয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গাজীপুর ভোগরা বাইপাস দিয়ে এবং জয়দেবপুর থেকে বনমালা হয়ে টঙ্গী দিয়েও কিছু যানবাহন চলাচল করছে।

ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ইউনাইটেড পরিবহনের এক চালক জানালেন, শনিবার সকাল ৯ টা থেকে তিনি কলম্বিয়া গার্মেন্টসের উত্তর পাশে এসে আটকা পড়েছেন। ওইদিন যাত্রীরা বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে চলে গেলও তিনি এবং তার দুই সহকারী আটকা পড়ে আছেন তিনদিন ধরে। রাস্তা শুরু থাকায় ঘুরিয়ে পেছন দিয়ে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই। তিনি বলেন তিন দিন ধরে গোসল খাওয়াসহ নানা সমস্যায় পড়লেও কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে গাড়িতেই অবস্থান করছি।

এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা গতকাল দ্বিতীয় রাতও তারা মহাসড়কে কাটিয়েছেন। সারা রাত তারা সড়কের মাঝখানে এবং দুই পাশে অবস্থান নিয়ে অবরোধ চালিয়ে যান। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশকে ওই এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে বিকল্প সড়ক ব্যবহারে অনুরোধে করে একটি ট্রাফিক আপডেট দেওয়া হয়েছে। ওই আপডেটে বলা হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীবৃন্দের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গার্মেন্টসের শ্রমিকগণ কর্তৃক ভোগড়া বাইপাস ও মালেকের বাড়ির মাঝামাঝি কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে (শনিবার) সকালে শুরু করা মহাসড়কে অবরোধ অব্যাহত আছে। বিধায়, সম্মানিত যাত্রীগণকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ইব্রাহিম খান বলেন, আমরা শনিবার আন্দোলনের শুরু থেকেই গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আমাদের ক্রাইম ডিভিশন, ট্রাফিক ডিভিশন, আমাদের শিল্প পুলিশ ও যৌথ বাহিনী সকলে মিলেই কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে টিএনজেডের শ্রমিক ভাইয়েরা যে অবরোধ করে রেখেছে, আমরা তাদের বারবার বলেছি রাস্তাটা ছেড়ে দিয়ে সরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা যে বেতন পাচ্ছে না, এটার দাবিতে তারা অবস্থান নিয়েছে। আমরা মালিক পক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়টি বিজিএমইএসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত