চট্টগ্রামের বিকাশে সিটি গভর্মেন্ট দরকার উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সেন্ট্রাল গভর্মেন্টকে আমরা অলরেডি বুঝিয়েছি যে একটা জিনিস আমাদের খুব দরকার সেটা হচ্ছে সিটি গভর্মেন্ট বা নগর সরকার। সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের জন্য এর বিকল্প নেই।
চসিকের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটির সদস্যদের এক সভায় সোমবার (১১ নভেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন।
টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মেয়র বলেন, সিটি গভর্মেন্ট না থাকায় আমাদের যে লিমিটেশন সেই লিমিটেশনকে জয় করতে হলে আমাদের আন্তরিক হতে হবে। আন্তরিকতার উপর আর কিছু নেই। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধতা, আমাদের যে হৃদ্যতা, এই হৃদ্যতা-ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে সিটি গভর্মেন্ট না হওয়া পর্যন্ত আমাদেও সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বাণিজ্য সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মেয়র শাহাদাত বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি মূলত তিনটি সেক্টরের উপর নির্ভরশীল। চার নাম্বার আরেকটি সেক্টরকে আমরা চট্টগ্রামের মাধ্যমে উঠিয়ে আনতে পারি। সেটা হচ্ছে পর্যটন খাত। যে পর্যটন খাত দিয়ে আমাদের আশেপাশের সার্কভুক্ত সবগুলো দেশ সমৃদ্ধশালী হয়ে গেছে। অথচ এই পর্যটন খাতটাকে আমরা সেভাবে বিকশিত করতে পারিনি। চট্টগ্রামকে ঘিরেই বাংলাদেশের পর্যটনখাত নির্ভরশীল। এ কারণে আমরা যদি চট্টগ্রামের পর্যটনখাতের বিকাশ ঘটাতে পারি তাহলে একদিকে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে।
অর্থনীতির বিকাশের স্বার্থেই চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রয়োজন মন্তব্য করে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আয়ের এত বড় একটি সেক্টর অথচ চট্টগ্রামের বাইরে বন্দরের টাকার সিংহভাগ চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন জায়গায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করার জন্য যেখানে ঘাটতি হচ্ছে সে জায়গায় বন্দরের টাকা চলে যাচ্ছে যদিও বন্দর চট্টগ্রামের। কাজেই চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পটাকে চিন্তা করে আমাদের কাজ করতে হবে। এখানে স্পেশাল ইকোনমিক জোন আছে, এখানে কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো আছে। এখানে আপনার বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটা ব্যাপার আছে এবং এখানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আছে। ব্যবসায়িক হাব হিসেবেও কিন্তু চট্টগ্রাম অত্যন্ত পরিচিত। কাজেই সব মিলিয়ে ভৌগোলিক কারণে আজকে চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জোনে রয়েছে।
শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যবসায়ীদের সাথে সভা করার ঘোষণা দিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি সবগুলো ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে বসব। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ করে নালা ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে ময়লার বিন রাখা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া পলিথিনের বিকল্প অনুসন্ধান করতে হবে আমাদের। এই পলিথিন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ।
সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ১৫ দিনের রিমান্ডে
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪ জন নিহত
৯৯৯- এ কল, উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ