সিরাজগঞ্জে ৩ সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৪ এএম

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও বুম ভেঙে ফেলার পর উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুল। এ নিয়ে সিরাজগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে অ্যাডহক থেকে মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ পেয়ে মোমেনা পারভীন পারুল ২০২০ সালে কাজিপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান। এই পদে থেকে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে পিতা বানিয়ে ব্যাপক দাপটে চলেছেন এই কর্মকর্তা। কাজিপুর উপজেলার ৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ৬৪ জন এমএইচভি দুই হাজার টাকা করে কর্তন করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ-সংক্রান্ত সংবাদও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি ঠিকাদার ছাড়াই রোগীদের খাদ্য সরবরাহ করছেন। এসব নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে গত সোমবার বিকেলে এশিয়ান টিভির কাজিপুর উপজেলা প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয় ও দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকার রিপোর্টার মুকুল হোসেন হাসপাতালে যান। তারা রোগী ও স্বজনদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এমন খবর পেয়ে ডা. মোমেনা পারভীন পারুল নিজের কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রথমে তাদের মাইক্রোফোন (বুম) কেড়ে নেন। এরপর ক্যামেরা স্ট্যান্ড কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং ভিডিও তোলার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও কেড়ে নেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেন। তবে সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাগলা কুকুরের মতো পারুল বেগম ধেয়ে এসে বুম কড়ে নিচ্ছেন এবং অন্যজন ভিডিও করার সময় তাকেও মারতে তেড়ে আসছেন। এরপরই মঙ্গলবার সকালে কাজিপুর থানায় বাদী হয়ে শ্লীলতাহানি, চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এশিয়ান টেলিভিশনের কাজিপুর প্রতিনিধি রাব্বি হাসান হৃদয় বলেন, কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করতে সেবা গ্রহীতাদের ভিডিও সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম। এ সময় ডা. মোমেনা পারভীন পারুল পেছন থেকে অতর্কিতভাবে ধাক্কা দেন। তিনি বুম, স্ট্যান্ড কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং ভিডিওর কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। ক্যামেরা স্ট্যান্ড দিয়ে তিনি সাংবাদিক মুকুল হোসেনকে বেধড়ক মারধর করেন। উল্টো তিনিই মামলা করেছেন। এ নিয়ে সংবাদকর্মীরা হতাশ ও হতভম্ব।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ডা. মোমেনা পারভীন পারুলকে বারবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি।

কাজিপুর থানার ওসি নুরে আলম বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও শ্লীলতাহানিসহ মারপিটের অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত