বিশ্ব জুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমার কোনো লক্ষণ নেই, উল্টো শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের হার বাড়ায় দূষণ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছর সংস্থাটির সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে চলমান কপ-২৯ সম্মেলনের আলোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এবারের কপ-২৯ সম্মেলনে মূল আলোচ্য বিষয় উন্নয়নশীল দেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ কমাতে অর্থের জোগান দেওয়া। এবারের সম্মেলনে দেওয়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, কয়লা, তেল কিংবা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে কার্বনের নিঃসরণ গত বছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচকতা ঠেকাতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৩ শতাংশ কমিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল শিল্পোন্নত দেশগুলো। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল, সেটিও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছরের রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। গত এক দশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও যন্ত্রচালিত মোটরযান বেড়ে যাওয়ায় কার্বন নিঃসরণের হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু গত এক বছরেই বিশ্ব মারাত্মক সব তাপপ্রবাহ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ দেখেছে। আর এর ফলে বাকুতে এখন অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার দ্রুত কমানোর ক্ষেত্রে সেখানে অংশ নেওয়া নীতিনির্ধারকদের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গ্লোবাল কার্বন বাজেট-এর প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটারের অধ্যাপক পিয়েরে ফ্রাইডলিংস্টেইন বলেন, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের নাটকীয় প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এদিকে, বাকুতে আয়োজিত জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে কপ-২৯ এ অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলন কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। এবার সম্মেলনের আয়োজক দেশ আজারবাইজানের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আকাক্সক্ষা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে নিপীড়নমূলক নীতির কারণে দেশটি জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক হওয়ার যোগ্যই নয় বলে মন্তব্য করেন থুনবার্গ। এবারের সম্মেলনটিকে পরিবেশবান্ধবের ভান করে দেওয়া ধোঁকা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
×
