সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে ঠিক করবে সরকার

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৩ এএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার যত দিন চাইবে সেনাবাহিনী তত দিন মাঠে থাকবে। গতকাল বুধবার সেনাবাহিনী সদর দপ্তর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাঠে সেনা কার্যক্রমের বিবরণী উপস্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে ইন্তেখাব হায়দার বলেন, ‘বিরাজমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় নিয়োজিত আছে। সেনাবাহিনী জনগণের জানমাল, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে রক্ষা করার পাশাপাশি যেসব দায়িত্ব পালন করছে তা হলো পুলিশ বাহিনীকে ফের কার্যক্ষম হতে সহায়তা করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা; বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সহায়তা করা। এ ছাড়া জনগণের ভোগান্তি এড়াতে দেশের অর্থনীতিতে সচল রাখতে মূল সড়কগুলোকে বাধামুক্ত রাখা, বিভিন্ন স্থান থেকে বেহাত ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা এবং সার্বিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার যাতে তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে, সেজন্য পরিবেশ বজায় রাখা।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা, বিভিন্ন অপরাধী ও নাশকতার কাজের ইন্ধনদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করার কাজেও সম্পৃক্ত রয়েছে। যৌথ অভিযানে ৭০০ জনের বেশি মাদক ব্যবসায়ী অথবা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, গাঁজাসহ অন্যান্য অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।’

কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, ‘গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হলে, সেনা সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে প্রত্যন্ত এলাকাসহ দুর্গত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। দুর্গত এলাকায় মোবাইল সংযোগ পুনঃস্থাপনে সহায়তা, মহাসড়কে ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সচল রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও সড়ক সংস্কার এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনেও সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা রাখে, যা এখনো চলমান।’

তিনি বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদ-মর্যাদার অফিসারদের সরকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়, যা এখনো চলমান। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তার জন্য সেনাবাহিনীর সব পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষমতার কার্যকরী প্রয়োগের কারণে ইতিমধ্যে চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, শিল্পাঞ্চলের বিশৃঙ্খলা, রাস্তা অবরোধ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হয়েছে। দুর্গাপূজায়ও নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’

‘পাশাপাশি সেনাবাহিনী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে যারা আহত হয়েছে, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে। ৩ হাজার ২৯৫ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, ৪৩ জন এখনো চিকিৎসাধীন বলেও জানান কর্নেল ইন্তেখাব।’

এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন বা বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে সেনাবাহিনী অত্যন্ত সচেতন। সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে তা প্রতিরোধ করবে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাছে অপরাধের যেসব তথ্য থাকে, সেগুলো নিয়েও সেনাবাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পাওয়ার পর অপরাধের সংখ্যা ‘অনেক কমেছে’। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে যতটুকু আশা করা গেছে সে অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত