ব্যালন ডি অর পুরস্কারের সময় যখন ঘনিয়ে আসছিল, আলোচনার পারদও মাত্রা ছাড়াচ্ছিল। গত মৌসুমটা দুর্দান্ত কাটিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। জিতেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। আর ক্লাবটির ব্রাজিলিয়ান তারকা স্ট্রাইকার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন সেরা পারফরমার। তাই এই পুরস্কারের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি জিতে নেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ কাসকান্তে। যিনি রদ্রি নামে পরিচিত। খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার সিটিতে।
পুরস্কার শেষে আলোচনা-সমালোচনা সবদিক থেকে ধেয়ে আসে! কেন ভিনি পেলেন না? এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে দুটি পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু পরিসংখ্যান ঘাটালে দেখা যায় ভিনি শুধুই রিয়ালের হয়েই দ্যুতি ছড়িয়েছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে ছিলেন নিষ্প্রভ। অন্যদিকে সিটির অন্যতম এই প্রাণভোমরা রদ্রি ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও ছড়িয়েছেন দ্যুতি। স্পেনকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন করতেও রেখেছিলেন ভূমিকা। তাই তো তার হাতে পুরস্কার তুলে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি বিচারক ও ভোটপ্রদানকারীরা।
চলুন দেখে নেওয়া যাক রদ্রিকে ছাপিয়ে ভিনি কেন ব্যালন ডি’অর জিতলেন না? শুক্রবার ভোররাত ৩টায় ব্রাজিল মুখোমুখি হয়েছিল ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে শুরুতে ব্রাজিল এগিয়ে গেল পরে ভেনেজুয়েলা সমতায় ফিরে। তবে সেলেসাওদের জেতার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভিনি পেনাল্টি শট মিস করায় জয়টা হাত থেকে যেন ফসকে যায় দরিভাল জুনিয়রের শিষ্যদের।
আর এই ম্যাচের পরই শুরু হয়েছে আবার আলোচনা। সবাই বলতে শুরু করেছেন, ‘এজন্য ব্যালন ডি’অর জেতা হয় না ভিনির।’ জাতীয় দলে আর ক্লাবে ভিনির পরিসংখ্যান কেমন সেটা দেখে নিন। ভিনি গত মৌসুমে ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৩৬ ম্যাচ। গোল এবং অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৫টি করে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি মাঠে নামেন ৪৯টি ম্যাচে এবং অবদান রাখেন ২৬ গোল ও ১১ অ্যাসিস্টে। তিনি লা লিগা, ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব চ্যাম্পিয়নস লিগ, এবং সুপারকোপা ডি এস্পানা জয়ে দলের শিরোপা সংগ্রহে অবদান রাখেন। কিন্তু যখন দেশের জন্য খেলতে নামেন, সেখানে ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না। কোপা আমেরিকা ২০২৪-এ মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলে তিনি দুটি গোল করলেও ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে যায়। এটি হয়তো ভিনির ব্যালন ডি'অর জয়ের স্বপ্নে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে গত এক বছরে রদ্রি ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে অবিশ্বাস্য অবদান রেখেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৬৩ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১২ গোল এবং ১৪ অ্যাসিস্ট করেছেন, যা সিটির প্রিমিয়ার লিগ, ইউরোপীয় সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়কে সম্ভব করেছে। রদ্রি এমনকি ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪ জয়েও অসামান্য ভূমিকা রাখেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুটও জিতে নেন।
তার নির্ভরযোগ্যতা, গতি এবং দক্ষতা তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। গত এক বছরে জাতীয় দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি করেছেন ৩টি গোল। ইউরো ২০২৪-এ তিনি ৬টি ম্যাচ খেলেন, যেখানে তিনি ১টি গোল করেন এবং তার পাসিং অ্যাকুরেসি ছিল ৯২.৮৪%। এছাড়া তিনি ৩৩টি বল রিকভার, ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পাস এবং ১১টি আক্রমণাত্মক রান করেন। রদ্রি মাঠে ৫২১ মিনিট খেলেছেন এবং প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ৮৬.৮৪ মিনিট খেলেন, যা তার ধারাবাহিকতার প্রমাণ।
রদ্রির ক্ষেত্রে জাতীয় ও ক্লাব স্তরের ট্রফি ও সাফল্য তার হাতে ব্যালন ডি'অর এনে দেয়, কারণ ভোটারদের কাছে সমগ্র ফুটবলার হিসেবে তার যোগ্যতাই বেশি জোরালো ছিল। তার সংযম, কৌশল, এবং দলকে লিড করার শক্তি তাকে সত্যিকার অর্থেই আলাদা করে তুলেছে। অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুস ছিলেন সেই খেলোয়াড় যিনি দর্শকদের উত্তেজনায় ভাসিয়ে দিয়েছেন, তবে রদ্রির মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাব রাখতে পারেননি।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চেয়ে রদ্রি ব্যালন ডি'অর জেতার পেছনে মূল দুটি কারণ হলো:
আন্তর্জাতিক সাফল্য ও টুর্নামেন্টে অবদানের ভারসাম্য: রদ্রি স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪ শিরোপা জিতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হন। জাতীয় দলের হয়ে তার এই অসামান্য সাফল্য ব্যালন ডি'অর ভোটারদের কাছে প্রভাবশালী ছিল, যেখানে ভিনিসিয়ুস ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
ক্লাব পর্যায়ে রক্ষণ ও মধ্যমাঠে স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতার ভূমিকা: রদ্রির ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলায় ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হয়েও তিনি ১২ গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স আক্রমণভিত্তিক হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেমনভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি।
দলকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ?
ওয়াটসনের সঙ্গে ক্রিকেট একাডেমি খুলতে চান ইমরুল
ইসরায়েলকে হারাতে না পেরে 'ক্ষুব্ধ ও হতাশ' ফ্রান্স