হাসান আজিজুল হক। ‘আগুনপাখি’ খ্যাত উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান। তাঁর অসামান্য কীর্তিকে অমর করে রাখতে তারই স্মৃতিবিজরিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে সমাহিত করা হয়। একসময় যে মহৎ ব্যক্তিটির জন্মদিনও ঘটা করে পালন করা হতো আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী যেন নীরবে-নিভৃতে কেটে গেল। কোনো স্মরণসভা তো দূরের বিষয় তাঁর সমাধিতে ন্যূনতম শ্রদ্ধাঞ্জলিও জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ‘এমন একজন মহৎ ব্যক্তি মৃত্যু দিবসে কোনো আয়োজন না থাকা দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক।
এর আগে গত বছর হাসান আজিজুল হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দর্শন বিভাগসহ ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে একটি স্মরণসভার আয়োজনও করে বিভাগটি। তবে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং দর্শন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আয়োজন করা হয়নি। এমনকি সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলিও জানায়নি বিভাগটি।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন অনুশীলন নাট্যদল, সমকাল নাট্যচক্র, তীর্থক নাটক, আবৃত্তি সংগঠন স্বনন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, ইলা মিত্র শিল্পী সংঘ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন ছোট স্বপ্ন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দর্শন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ অধিকারী শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও দর্শন বিভাগের কোনো শ্রদ্ধাঞ্জলি দেখা যায়নি।
বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রুদ্র আল মুত্তাকিন বলেন, ‘হাসান আজিজুল হক উপমহাদেশের খ্যাতিমান একজন লেখক ছিলেন। কিন্তু তার প্রয়াণের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভাগ তাকে ভুলে গেল। এটা খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটা দায়িত্ব ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে আজকের দিনে অন্তত হাসান আজিজুল হককে স্মরণ করা। আমাদের জুলাই বিপ্লবের পর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন প্রত্যাশা ছিল সেটার ব্যর্থতার সবচেয়ে নজির এটি।’
দর্শন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও অনুশীলন নাট্যদলের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ দিবসটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে, তাকে স্মরণ করেছেন। অথচ যে বিভাগকে তিনি সারাজীবন অলঙ্কৃত করে গেছেন সে বিভাগ থেকে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। এধরনের ঘটনায় আমি লজ্জিত এবং লজ্জিত।’
আয়োজন না করার কারণ জানতে চাইলে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নিলুফার আহমেদ বলেন, ‘বিশেষ কারণে দিবসটি পালন করা সম্ভব হয়নি। আগামীতে দিবসটি পালন করা হবে। তিনি বিভাগের শ্রদ্ধার পাত্র। আমরা সবাই তাকে শ্রদ্ধা করি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসান আজিজুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো আয়োজন ছিল না। আর দিবসটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাকি বিভাগ পালন করবে সে বিষয়টিও আমার জানা নেই।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০১৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সন্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে।
রিমান্ড শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কারাগারে
ঢাবি ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন