উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নামতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার ঘন কুয়াশার কারণে সকাল ৮টায় ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা আকাশ পথে দুটি বিমান চলাচলে শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকা ও কক্সবাজার আকাশ পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬টি ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল করে। এর মধ্যে দুপুর ১২টার আগে তিনটি ফ্লাইট রয়েছে। বাকিগুলো দুপুর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলাচল করে। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ঘন কুয়াশার কারণে দুটি ফ্লাইট অবতরণে দেরি হয়েছিল।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার ভোর থেকে এই এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। বিমান চলাচলের জন্য কমপক্ষে দুই হাজার মিটার ভিজিবিলিটি (দৃষ্টিসীমা) থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র ৫০ মিটার ভিজিবিলিটি ছিল। ফলে বিমান চলাচলে কিছুটা বিঘœ ঘটছে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক এ কে এম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া জানান, সকালের ফ্লাইট বাতিল করা হয়নি। তবে শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। সকাল ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ও এয়ার অ্যাস্টার একটি ফাইট সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও সেগুলো নামতে পারেনি। বেলা ১১টার পর আকাশ পরিষ্কার হলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ দিনে রংপুর অঞ্চলে গড়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে। গতকাল সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তথা উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর তিস্তা নদীবিধৌত ডিমলায় ১৮ ডিগ্রি, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ছিল ১৮ দশমিক ৫, দিনাজপুরে ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং বিভাগীয় শহর রংপুরে ছিল ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গড়ে প্রতিটি এলাকায় এক দিনের ব্যবধানে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা কমেছে। অগ্রহায়ণের আগমনে উত্তরাঞ্চলে শীত ও ঘন কুয়াশা জানান দিচ্ছে।
