পূন্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাস উৎসব

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম

গঙ্গাস্নান বা পূন্যস্নানের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শেষ হয়েছে রাস উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ শনিবার ভোর ৬টায় জাগতিক সকল পাপ মোচনের আশায় সৈকতের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে এ গঙ্গাস্নান সম্পন্ন করেন হিন্দুধর্মালম্বীরা। 

স্নানের আগে সৈকতে মোমবাতি, আগরবাতি, বেল পাতা, ফুল, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল ও সিঁদুর সমুদ্রে জলে অর্পন করে সনাতনী নারীরা। এসময় উলুধ্বনি ও মন্ত্রপাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সৈকত। এছাড়া মাথান্যাড়াসহ প্রায়শ্চিত্ত ও পিণ্ডদান করেন অনেক মানতকারীরা। এর আগে, রাতভর কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজার্চনা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তনে মেতে ওঠে সনাতনীরা।

বরিশাল থেকে আগত শ্রী সুকান্ত বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস যেই এই দিনে সকল পাপ মোচনের মুহূর্ত। তাই আমরা গতকালকে কুয়াকাটা এসেছি। রাতভর ভগবানের গুণকীর্তন শেষ করে সকালে সমুদ্রে পূন্যস্নানের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে শান্তি চেয়েছি।’ 

খুলনা থেকে আগত রাহুল বলেন, ‘আমরা রাস পূর্ণিমার উৎসব পালনের পাশাপাশি নারীদের সিঁদুর বিক্রি করেছি। প্রতি বছরই আমরা আসি এ বছর ভালো বিক্রি করেছি। আমরা কুয়াকাটাতে এ জন্য প্রতি বছর আসি।’

রাস পূজা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও কুয়াকাটা সৈকতে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সভাপতি কাজল বরণ দাস জানান, সৈকতের পাড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনায় বসবেন তারা, পুণ্যার্থীরা সাগরকে সামনে রেখে নির্জনে কৃষ্ণপূজার সঙ্গে দেবতার নীল কমল আর গঙ্গাদেবীর আরাধনায় মগ্ন হয়েছে তারা।

পূন্যস্নানের আগে সৈকতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দুর্বা সমুদ্রে জলে অর্পন করে সনাতনী নারীরা

কুয়াকাটা সৈকতে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক ইন্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মণ্ডল জানান, ‘বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই দেশে সবাই মিলে একটি সুন্দর লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে, যা আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। আমাদের এই মন্দিরের পাশেই একটি মসজিদও রয়েছে, তারা আমাদের এই আয়োজনে অনেক সহযোগীতা করেছে। আমাদের মধ্যে বেশ সুসম্পর্ক।’

কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাস উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন আয়োজন হাতে নিয়েছি। এবারের আয়োজন প্রত্যেকটা পুণ্যার্থী ও দর্শণার্থী নিরবিচ্ছিন্নভাবে আয়োজন উদযাপন করেছে। আমরা পুরোপুরি এই আয়োজন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নিরাপত্তায় কঠোর ছিলাম আমরা। আমাদের প্রায় ৪ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল। আজকে সকালে রাসমেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপত্তা বহাল রাখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত