কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না ভারতের মণিপুর রাজ্যের। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর। জিরিবাম, পশ্চিম ইম্ফল, বিষ্ণুপুরসহ একাধিক জেলায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এবার জাতিগত দাঙ্গায় সন্দেহভাজন কুকিদের হাতে অপহৃত এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ নদীতে ভেসে উঠল। ওই তিনজনই মেইতেই সম্প্রদায়ের বলে আসাম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে। খবর এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আসাম-মণিপুর সীমান্তের জিরিবামের গিলগাল এলাকায় বরাক নদী থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনটি মরদেহের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। অপহরণকারীরা নিহতদের হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃতদেহগুলি পোস্টমর্টেমের জন্য শিলং মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়েছে।
মরদেহগুলোর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
গত সোমবার মেইতেই সম্প্রদায়ের একই পরিবারের ৬ জন জিরিবামের বোরোবেকরা এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়। নিহতরা লাইশরম হেরোজিৎ নামের এক শ্রমিকের দুই সন্তান ও স্ত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপহৃতদের মধ্যে ওই হেরোজিৎ এর শাশুড়ি এবং স্ত্রীর বোনও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
মেইতেই সম্প্রদায়ের অভিযোগ, কুকি সম্প্রদায়ের সশস্ত্র জঙ্গিরা ৬ জনকে অপহরণ করেছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিরিবামে কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর মধ্যে ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে করে যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
গত জুন মাসে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধার পর মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকজনকে বোরোবেকরা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, সোমবার আশ্রয় শিবিরে হামলা চালায় কুকি জঙ্গিরা। হামলার পরে ওই ৬ জনকে অপহরণ করা হয়।
কুকিরা হামলা চালানোর পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের গুলিতে ১০ জন সশস্ত্র জঙ্গি মারা যায়। তবে একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে মেইতেই সম্প্রদায়ের দুজন বয়স্ক ব্যক্তির মৃতদেহও উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে অপহরণের পর মণিপুরের জিরিবামের মেইতেই সম্প্রদায়ের তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় জিরিবামে হাজার হাজার মেইতেই জনতা অপহৃত ছয় জনের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। হাতে মোমবাতি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন মেইটির নারী-পুরুষ ও যুবকরা।
২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে হিন্দু সংখ্যাগুরু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কুকিদের সংঘাত চলছে। জাতিগত সংঘাতে রাজ্যটিতে এ পর্যন্ত শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বনের কাঠ পুড়িয়ে চলছে ইট তৈরির প্রস্তুতি