সিঙ্গাপুরে চোখ মেলেছে মুসা থাইল্যান্ড যাচ্ছেন কাজল

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৯ এএম

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ সাত বছর বয়সী শিশু মুসার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য শাহরিয়ার মাহমুদ ইয়ামিন। গতকাল শনিবার তিনি তার ফেসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসে এই তথ্য জানিয়েছেন। সেখানে তিনি শিশু মুসার চিকিৎসাধীন ও আহত হওয়ার আগের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন।

ইয়ামিন লিখেছেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় ৩ মাস পর শিশুটি এখন চোখ খুলেছে, নাড়তে শুরু করেছে হাত-পা।

এর আগে গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে দীর্ঘ আড়াই মাস চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে গত ২২ অক্টোবর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার।

স্ট্যাটাসে ইয়ামিন বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মুসা হাত-পা নাড়ছে, চোখ খুলছে, বসতে পারছে। এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। আমার চোখেমুখে কী পরিমাণ আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। মুসা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে ছোট যোদ্ধা। এক বুলেট তার দাদির পেটের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে মুসার মাথায় লাগছিল। দাদি স্পট ডেট হলেও এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে আছে মুসা! ’

এখনো মুসার বেঁচে থাকাটা এক অলৌকিক ঘটনা উল্লেখ করে স্ট্যাটাসে ইয়ামিন বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে গিয়ে শুরুতেই করোনা পজিটিভ ধরা পড়ছিল। এটা শুনে রীতিমতো কান্না আসছিল আমার। পরে করোনা থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে পুরোদমে চিকিৎসা শুরু হয় এবং এখন আগের চেয়ে উন্নত। মুসাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর পেছনে দৌড়ঝাঁপ করার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। মুসাকে কেন সৃষ্টিকর্তা এখনো বাঁচিয়ে রাখছেন তা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন। কোনোভাবেই যেন তার চিকিৎসা ব্যাহত না হয়, সেদিকে সরকার সর্বোচ্চ নজর রাখছে। মুসা ফিরে আসুক সুস্থ হয়ে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির এই সদস্য স্ট্যাটাসে জানান, ‘অনেকে মুসার আপডেট জানার জন্য জিজ্ঞেস করেন। তাই পোস্ট দিলাম আজকে সকালের (গতকাল শনিবার) আপডেট। সরকার প্রথম ধাপে অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ ছাড়া মুসার জন্য এককালীন ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আরো ১ কোটি টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া সরকারি খরচে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা চলছে তিনজনের। আরও ১০-১২ জনের বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, মুস্তাফিজুর রহমান ও নিশামণি দম্পতির একমাত্র সন্তান মুসা। গত ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরার মেরাদিয়া হাট এলাকার বাসার নিচে গুলিবিদ্ধ হয় মুসা ও তার দাদি মায়া ইসলাম (৬০)। তিনি মুসাকে আইসক্রিম কিনে দিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার নিচে নেমেছিলেন। তখন দুজনেই গুলিবিদ্ধ হয়।

কাজলকে নেওয়া হচ্ছে থাইল্যান্ডে : জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আহত কাজলকে উন্নত চিকিৎসায় থাইল্যান্ড নিচ্ছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রবিবার তাকে থাইল্যান্ডের বেজথানি হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে। তিনি তিন মাস ধরে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্দোলনের সময় কাজল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পান। পরে ভর্তি হন নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে তার উন্নতি হতে থাকে। কিন্তু দুদিন আগে হঠাৎ করে ইনফেকশন হয়। বেশ কয়েকবার তার ডায়রিয়া হয়। এতে করে রক্তচাপ কমে গিয়ে তিনি শকে চলে যান। পরে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ চিকিৎসক বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা দিতে থাকে। কিন্তু গতকাল শনিবার সকাল থেকে তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। গতকালও চিকিৎসক বোর্ড কাজলের চিকিৎসায় সভা করে। তার অবস্থা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমকে জানানো হয়।

ওই চিকিৎসক জানান, হাসপাতাল থেকে কাজলের অবস্থা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে জানানো হয়। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। বিকেলে হাসপাতালে আসেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কাজলকে দ্রুত থাইল্যান্ডের বেজথানি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তথ্য উপদেষ্টা কাজলের ভিসা ও খরচের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। দুই মন্ত্রণালয় থেকেই সবুজসংকেত পান। পরে সিদ্ধান্ত হয় কাজলকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাইল্যান্ড নেওয়া হবে। এর আগে সিএমএইচ হাসপাতাল থেকে আন্দোলনে আহত শিশু মুসাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সে অভিজ্ঞতা থেকেই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সিএমএইচে যোগাযোগ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেন। পরে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কথা হয়।

ডা. হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেছেন, ভিসা না থাকায় কাজলকে গতকাল থাইল্যান্ড নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে থাই ভিসা সেন্টারে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আজ রবিবার ভিসা পাওয়া যাবে। ভিসা পাওয়ার পরই থাইল্যান্ডের উদ্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দেবেন কাজল।

এদিকে কাজলকে দেখতে গতকাল সন্ধ্যায় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্যের সহকারী উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি অধ্যাপক ডা. আবু জাফর ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা ডা. আহাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত