কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। অল্প সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারায় আগাম জাতের ধান চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষকের কাছে। বিশেষ করে এই ধান কাটার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল ফলিয়েও লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
কুড়িগ্রামের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় পাকা আমন ধানের সোনালি রঙে সেজেছে মাঠের পর মাঠ। মাঠগুলোতে যতদূর চোখ যায় শুধু পাকা ধানের সোনালি রূপ। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ ধান কাটা-মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোপা আমন মৌসুমে ১ লাখ ২০ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধান চাষ করা হয়েছিল। জেলার ৯ উপজেলায় উঁচু জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন জাতের আগাম ধান আবাদ করেছেন। এসব জাতের ধান ফলনও ভালো হয়, আবার কার্তিকের শুরুতেই ঘরে তোলা যায়। সেই সঙ্গে উৎপাদিত খড় দিয়ে গো-খাদ্যেরও সংকট অনেকাংশে মেটে।
কৃষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে আগাম জাতের ধানের। সেই সঙ্গে ধান কাটার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা। কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, আগাম ২ বিঘা জমিতে ব্রি ২৮ জাতের ধান আবাদ করেছি। কেটে বাড়িতে নেওয়ায় হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। এখন আবার জমি তৈরি করে সরিষা আবাদ করার চিন্তা করছি। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এবার আমন মৌসুমে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আমন ধান হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদ ভালো হয়েছে।
বিরামপুর
বিরামপুরে কৃষি দপ্তরের আয়োজনে ধান কাটার উদ্বোধনের পর চলছে ফসলের মাঠে ও বাড়িতে নানা উৎসবের আয়োজন। এবার আমন ধানচাষিরা উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ নেওয়ায়, রোগবালাই কম হয়েছে এবং ফলন ভালো পেয়েছেন। বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কমল কৃষ্ণ রায় জানান, এ বছর আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষক নিয়ম মেনে ধান চাষ করায় ফলন ভালো পেয়েছেন। প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৫.৭৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত প্রায় ১ লাখ ৩১০ মেট্রিক টন ধানের সরকারি বাজার মূল্য প্রায় ৩৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুজহাত তাসনীম জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সব রকম সহযোগিতা করা হয়েছে। বিরামপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এএইচএম তৌহিদুল্লাহ জানান, প্রতি কেজি আমন ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ টাকা। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত রয়েছে ১ হাজার ১৯৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের। শম্পাকাটারি ধান কাটা শুরু হয়েছে বিনাইল ইউনিয়নের চাপড়া, অচিন্তপুর, বানোড়া, আয়ড়া, হেমড়াসহ কয়েকটি গ্রামে, জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বাদশা।
মুকুন্দপুর ইউনিয়নের ধানচাষি জুলফিকার জানান, ফলন ভালোই হয়েছে। রোগবালাই একেবারে ছিল না। আমন ধান কেটে ঘরে তোলা ও নবান্ন উৎসবকে ঘিরে কৃষকের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। নতুন ধানের চাল থেকে তৈরি ক্ষীর-পায়েস ও বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের মাধ্যমে দিনাজপুর অঞ্চলে পালিত হয় নবান্ন উৎসব।
