গাজীপুরে বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকরা অক্টোবর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা তিন দিন ধরে বিক্ষোভ ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে পাশের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হওয়া পানিশাইল এলাকার ডরিন ফ্যাশন খুলে দেওয়ার দাবিতে জিরানী বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ওই কারখানার শ্রমিকরা। দুই কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভের জেরে মহানগরীর এলাকার আশপাশের ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। পাশের অ্যামাজান কারখানা চালু থাকায় ওই কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় দুই কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হয়।
পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর মাসে বেতনের দাবিতে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের শ্রমিকরা তৃতীয় দিনের মতো গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে করে বিক্ষোভ করছিল। এ সময় ডরিন ফ্যাশন নামের অন্য একটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় ওই কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর দুই কারখানার শ্রমিকরা মিলে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে চক্রবর্তী ও জিরানী বাজার এলাকায় আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দিতে থাকে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার জেরে কাশিমপুর ও জিরানীর গাজীপুর মহানগর এলাকায় অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে পাশের আশুলিয়া পূর্বকলতাসুতি এলাকার অ্যামাজান নীট কারখানাটি চালু ছিল। আন্দোলনকারীরা জানতে পেরে ওই কারখানার সামনে গিয়ে শ্রমিকদের তাদের আন্দোলনের সাথে যোগ দেওয়ার আহবান জানায়। এতে ওই কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় বেক্সিমকে ও ডরিন কারখানার শ্রমিকরা ওই এলাকার দোকানপাটে হামলা চালায়। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা এবং অ্যামাজান কারখানার শ্রমিকরা মিলে বেক্সিমকো এবং ডরিন কারখানার শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। এতে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে বেক্সিমকো ও ডরিন ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে অ্যামাজান কারখানায় হামলা চালিয়ে প্রথমে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে তারা কারখানাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে আটকে দেয় ওই দুই কারখানার শ্রমিকরা। বেলা ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও এর আগেই কারখানার সব মালপত্র ও মেশিন পুড়ে যায়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, খবর পেয়ে কাশিমপুর দমকল বাহিনীর দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। শ্রমিকদের বাধার কারণে সময়মতো পৌঁছানো যায়নি। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো হয়।
কাশিমপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। তিনি আরও জানান, বেক্সিমকো কারখানাগুলোর মধ্যে সিরামিক, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। সিরামিকে বেতন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইলের ৩৬ হাজার শ্রমিকের বেতন বকেয়া রয়েছে। মালিক সালমান এফ রহমান কারাগারে। কারখানার কর্মকর্তারা ২০ নভেম্বর শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন।
