হিজবুল্লাহর হ্যাঁ নেতানিয়াহুর না

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে হিজবুল্লাহ ও লেবানন সরকার। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও অভিযান থামাবে না তার দেশ। গতকাল মঙ্গলবার টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে যাবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। একে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সংলগ্ন দক্ষিণ লেবানন, বিশেষ করে লিটানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর কোনো অবস্থান থাকবে না। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী বলতে কেবল লেবাননের সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা অবস্থান করতে পারবে। প্রস্তাব অনুযায়ী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যেতে হবে ইসরায়েলি বাহিনীকেও। এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার বৈরুতে পৌঁছেছেন মার্কিন দূত আমোস হোচস্টাইন।

সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার পাশাপাশি লেবাননে স্থল অভিযানও চালাচ্ছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে দেওয়া এক বক্তৃতায় নেতানিয়াহু জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করা হলেও অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েলি বাহিনী। নেতানিয়াহু বলেন, কাগজে কী থাকবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সই করা হলেও আমাদের উত্তরে আক্রমণ চালিয়ে যেতে হবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও সেটা মানার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ। তার দাবি, দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে ইসরায়েলি বাহিনীর। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ শেষে গাজা ও লেবাননে অবস্থান নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে ইসরায়েলের। এর বাইরে কোনো প্রস্তাবে আমরা সম্মতি দিচ্ছি না।

একই ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন গত মাসে চালানো বিমান হামলা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি উপাদানে আঘাত করেছে। এ হামলার ফলে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমেছে। কিন্তু ঠিক কোন উপাদানে আঘাত করেছে, তা স্পষ্ট করেননি নেতানিয়াহু। গাজা ও লেবাননে আগ্রাসন ও ইরান-হামাসের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার বদলা হিসেবে ১ অক্টোবর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। জবাবে ২৬ অক্টোবর ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ তিনটি প্রদেশে তিন দফায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত