শ্রমপরিবেশ উন্নয়নে সময় দিতে নারাজ বিদেশিরা

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৩ এএম

বাংলাদেশ শ্রমপরিবেশ উন্নয়নে আরও সময় চাইলেও উন্নয়ন সহযোগীরা এখনই তা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-ইপিজেডকে অন্তর্ভুক্ত করে অভিন্ন শ্রম আইন প্রণয়নে বর্তমান আইন সংশোধনে আর কালক্ষেপণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন উন্নয়ন সহযোগী পাঁচ দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপরও জোর দিয়েছেন তারা। এসব উন্নয়ন লক্ষ্যসহ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এ-সংক্রান্ত পথনকশার অগ্রগতি সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন।

ঢাকায় গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘৩+৫+১’ সংলাপে পাঁচ দেশ ও সংস্থার পক্ষ থেকে এ পরামর্শ দেওয়া হয়। সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএলওর পথনকশা অনুযায়ী শ্রম খাতের বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এখনো বাকি অগ্রগতি শেষ করতে না পারার কারণ হিসেবে প্রথম দফা অতিমারী করোনা, পরে জাতীয় নির্বাচন ও সব শেষ ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান এবং সরকার পরিবর্তনের বিষয়গুলো জানানো হয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। শ্রম পরিবেশ উন্নয়নে আইএলও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোর শতভাগ বাস্তবায়নে আরও সময় চেয়েছেন সরকারের কর্মকর্তারা।

‘৩+৫+১’ হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান ও পররাষ্ট্রÑ এই তিন মন্ত্রণালয়, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং জার্মানিÑ এই পাঁচ দেশ ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা আইএলও।

রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন অগ্নিকা-ের পর থেকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের টেকসই সংস্কার উন্নয়ন তদারকির অংশ হিসেবে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত এবং আইএলওর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর সংলাপে নিজ দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন।

বিগত বছরগুলোয় সংলাপ শেষে গণমাধ্যমকে সংলাপের অগ্রগতি অবহিত করা হয়। তবে এ বছর ব্রিফ করা হয়নি। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংলাপে আইএলওর পথনকশা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রম খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২৬) গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনা আইএলও গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত রোডম্যাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

অন্যদিকে রানা প্লাজা ধসের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতের পর এ সুবিধা ফেরত দিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) পক্ষ থেকে দেওয়া ১৬ শর্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ইইউর ডিউডিলিজেন্সের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বাংলাদেশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (এনপিএ) বাস্তবায়ন কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়গুলো জানতে চান উন্নয়ন সহযোগীরা।

বৈঠক সূত্র জানায়, অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন মজুরির দাবিতে আন্দোলনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তার একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া সহজ করা, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করাসহ ন্যাশনাল ট্রাইপার্টাইট কনসালট্যাটিভ কাউন্সিলকে (এনটিসিসি) আরও কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চান বলে জানান রাষ্ট্রদূতরা।

বৈঠকে উপস্থিত একজন রাষ্ট্রদূত নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে শ্রম খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করতে হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে আবশ্যক সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। তবে বাংলাদেশের এ সংস্কারে কার্যক্রমসহ শ্রম খাতের যেকোনো উন্নয়নে পাশে থাকবেন তারা। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশ নিয়ে যেন কোনো সংকটে না পড়ে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত