বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দক্ষিণ পেঁচুল গ্রামের কৃষক সোহেল রানা। প্রতি বছরই ৩০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। গেল খরিপ মৌসুমে আলুর ভাল দাম পাওয়ায় চলতি রবি মৌসুমেও আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।
ইতোমধ্যে ১২ বিঘা জমিতে আলু বীজ বপন করলেও মাঝপথে এসে বীজের সংকটে পড়েছেন। আলুর চাষের এই ভরা মৌসুমে দ্বিগুণ দামেও মিলছে না আলুর বীজ। এমন অবস্থা উপজেলার প্রতিটি আলু চাষির।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা যায়, এ বছর শেরপুর উপজেলায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লিখিত জমিতে ৪ হাজার ৫০ মেট্রিকটন আলুর বীজ প্রয়োজন। সে মোতাবেক উপজেলার নির্ধারিত ৯ জন ডিলারের জন্য বরাদ্ধ নির্ধারণ করা হয়েছে পৌর শহরের তালতলা এলাকার মেসার্স লাবীব ট্রেডার্স প্রো. ফিরোজ আলম ২১০ মেট্রিকটন, মেসার্স মিঠু বীজ ভান্ডার ৪০ মেট্রিকটন, মেসার্স তুষার বীজাগার প্রো. মকবুল হোসেন ২৫ মেট্রিকটন ও ফরহাদ সীড স্টোর প্রো. তবিবুর রহমান ২০ মেট্রিকটন, বেলঘড়িয়া বাজারের মেসার্স রাকিব সাকিব সীড প্রো. রফিকুল ইসলাম ২৮০ মেট্রিকটন, বোডের হাটের মেসার্স এনএসবি এন্টার প্রাইজ পো. আবু হান্নান সবুজ ২০ মেট্রিক টন, মেসার্স মীম কৃষি বিপণি এন্টারপ্রাইজ প্রো. মতিউর রহমান ৯০ মেট্রিক টন, খন্দকার পাড়ার করতোয়া ট্রেডার্স প্রো. আতিকুর রহমান টিটু ৩০ মেট্রিক টন, বেলঘড়িয়ার মীম এন্টারপ্রাইজ প্রো. আরজু হোসেন মঞ্জু ২২০ মেট্রিক টন এবং মুরাদপুর বাজারের আব্দুল মজিদ ৮০ মেট্রিক টন।
উপজেলার উপরোক্ত ৯ জন ডিলারের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণে আলুর বীজ ৭৬ থেকে ৭৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ টাকা কেজি দরে আলু বীজ বিক্রি করছেন। উচ্চমূল্যে আলু বীজ কিনলেও ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা বীজের সংকট তৈরী করায় আলু চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাষিরা। গত কয়েকদিন ধরে আলু বীজের কৃত্রিম সংকটের কথা জানিয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশিক খান ও কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বেলা ১১ থেকে শেরপুর উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শতাধিক কৃষক। পরে শেরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম রেজাউল করিমের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।
আলু চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, ডিলারদের নির্ধারিত দোকানে বীজ পাওয়া না গেলেও বিভিন্নস্থানে রেখে গোপনে তারা দ্বিগুণ দামে এ বীজ বিক্রি করছেন। অনেকেই ডিলারের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রিম টাকা দিলেও মিলছে না আলু বীজ। ডিলাররা অন্য উপজেলায় বেশি দামে এ বীজ রাতের আঁধারে পাচার করারও খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাতে পাচারকালে মেসার্স লাবীব ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী ফিরোজ আলমের দুই ট্রাক আলুর বীজ আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা। কিন্তু, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আলু বীজ সিন্ডিকেটে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতারের হাত আছে বলে অভিযোগ করেন আলু চাষিরা।
এছাড়াও, এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচারণের অভিযোগ তুলে আলু চাষি শিপন সরকার বলেন, ‘আমি ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। বীজের সংকটের কারণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতারের কাছে গেলে তিনি আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ধমকের সুরে বলেন আমি কি এখানে আলু বীজ নিয়ে বসে আছি?’
উপজেলার উচরং গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ফিরোজ আলমের কাছে ৬শ’ কেজি আলুর বীজের অগ্রীম টাকা দিয়েও বীজ পাইনি। মঙ্গলবারে আটক করা বীজগুলি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিক্রি করার কথা ছিল। এসে দেখি তিনি দোকানে তালা মেরে পালিয়েছেন।’ এ ব্যাপারে কয়েকজন ডিলারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দোকান বন্ধ থাকা ও মেবাইল বন্ধ রাখায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক খান সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালতে একজন ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় থানার টিমের উপস্থিতিতে শেরপুরের মেসার্স লাবীব ট্রেডার্স ও বিশালপুরের বেলঘড়িয়ার মীম এন্টারপ্রাইজ এই দুইটি ডিলার পয়েন্ট থেকে উপজেলার অবশিষ্ট সব আলুর বীজ বিক্রি নিশ্চিত করা হবে।’
পুলিশের ৫৪ কর্মকর্তাকে বদলি
খেজুর আমদানিতে ১০ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক কমল
পদত্যাগ করেও রয়ে গেছেন সিইসি হাবিবুল আউয়াল!
হবিগঞ্জে ব্যারিস্টার সুমনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ