চীনের ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর একটি নিউজিয়ে মসজিদ। যা বেইজিংয়ে অবস্থিত মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এই মসজিদটি চীনা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র। মসজিদটি লিয়াও রাজবংশের শাসন আমলে ৯৯৬ সালে নির্মিত হয়। এটি একটি বড় আয়তাকার ভবন, যা চারটি মিনার দ্বারা বেষ্টিত। মসজিদের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় নামাজের হল রয়েছে। যাতে ১ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদে একটি গ্রন্থাগার, একটি কনফারেন্স হল এবং একটি খাবার কেন্দ্রও রয়েছে।
মসজিদটি প্রথমে একটি ছোট কাঠের ভবন ছিল, যা পরবর্তী সময় ১২১৫ সালে মঙ্গলরা ধ্বংস করে দেয়। ১৪৪৩ সালে মসজিদটি পাথর দিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ১৬৯৬ সালে মসজিদটি আরও একবার পুনর্নির্মাণ করা হয়।
নিউজিয়ে মসজিদটি চীনা ও ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর একটি মিশ্রণ। মসজিদের বাইরের অংশটি চীনা স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। যেমন একটি ছাদ, যা টিনের শিট দিয়ে আবৃত। আর মসজিদের অভ্যন্তরটি ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। যেমন একটি মিহরাব কোরআনের আয়াত দ্বারা সজ্জিত। নিউজিয়ে মসজিদে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম রয়েছে। মসজিদের দেয়ালে টাইলস ওয়ার্ক, কাঠের কাজ এবং মার্বেল কাজ রয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে অনেকগুলো সুন্দর মোজাইক রয়েছে।
চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার প্রায়ই নিউজি মসজিদকে ইসলামি দেশগুলো থেকে আসা প্রতিনিধিদের দর্শনীয় স্থান হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। চীনের বাইরে থেকে হান চীনা, হুই পর্যটক এবং মুসলমানরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিউজি মসজিদ পরিদর্শন করে। যদিও অমুসলিমদের প্রার্থনা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি নেই, তবুও মসজিদে কর্মরত লোকেরা সমস্ত দর্শনার্থীদের সঙ্গে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন।
