প্রথম ঘণ্টায় দুটো উইকেট নেবেন বাংলাদেশের কোনো একজন পেসার, তারপর একটা বড় জুটি হবে। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম দুদিনের খেলায় এই একই ছবি। প্রথম দিনে সাফল্য পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ, দ্বিতীয় দিনে হাসান মাহমুদ। আগের দিন থিতু হয়েছিলেন মিকাইল লুই, দ্বিতীয় দিনে ভূমিকাটা নিয়েছেন জাস্টিন গ্রিভস। তার ব্যাটেই লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ঠিক ২৫০ রান। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান গ্রিভস আর জশুয়া ডি সিলভা দ্বিতীয় দিনের খেলায় শুরুতে মাঠে নামেন। দিনের পঞ্চম বলেই হাসান আউট করেন ক্যারিবীয়দের সহ-অধিনায়ক ডি সিলভাকে। ফুলার লেন্থের ডেলিভারিতে ফ্লিক খেলতে গিয়েছিলেন, কিন্তু বল অল্প সুইং করে এসে লাগে প্যাডে আর আম্পায়ারও লেগবিফোর উইকেটের আবেদনে সাড়া দেন। ডি সিলভা রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি, বিদায় নেন ১৪ রান করে; আগের দিনের রানের সঙ্গে কোনো রান যোগ না করেই। নিজের পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে আলজারি জোসেফের উইকেট নিয়েছেন হাসান, তবে তাতে জাকির হাসানের কৃতিত্বও কম নয়। গুড লেন্থে পড়া বলটা আউটসুইং করে বেরিয়ে যাচ্ছিল, আলজারি বলটা লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে লাগান ব্যাটের কানায়। বল উড়ে যাচ্ছিল গালি অঞ্চলের দিকে, সেখানে জাকির লাফিয়ে দেহটা শূন্যে ভাসিয়ে নিয়েছেন দর্শনীয় ক্যাচ। দিনের প্রথম ৩ ওভারেই ২ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করার যে স্বপ্নটা বাংলাদেশ দেখছিল, সেটা ফিকে হয়ে আসে কেমার রোচ আর গ্রিভসের প্রতিরোধে। শুরুর ঝটকার পর আর কোনো বিপদ বাড়তে দেননি মাত্র ২ টেস্টের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গ্রিভস। অন্যপাশে অভিজ্ঞ কেমার রোচকে নিয়ে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন এই বোলিং অলরাউন্ডার, সেই সঙ্গে একটু একটু করে রানের বোঝা বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর। অ্যান্টিগার এই মাঠে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস ২৪৫ রানের। আছে ৪৩ এবং ১০৩ রানে অলআউট হওয়ারও দুঃসহ স্মৃতি। সেসব মাথায় রাখলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এরই মধ্যে নিরাপদ সংগ্রহে পৌঁছে গেছে। লুই আর অ্যাথানাজ সেঞ্চুরি না পেলেও দলকে আড়াইশ পার করিয়েছেন, গ্রিভস তার টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরিতে দলকে তিনশ অতিক্রম করিয়েছেন। দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩৩৬ রান।
একটা সময়ে হাসান মাহমুদের গায়ে লেগে গিয়েছিল স্রেফ সাদা বলের বোলারের তকমা। ওয়ানডে অভিষেক ২০২১ সালে, তারও এক বছর আগে টি-টোয়েন্টিতে। টেস্ট একাদশে জায়গা পেলেন এই বছরের মার্চে, শ্রীলঙ্কা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে। অভিষেকের বছরই ৮ টেস্টে এখন পর্যন্ত ২৫ উইকেট হাসানের। তাতেই এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বটা নিজের করে নিয়েছেন হাসান, তার আগে সর্বোচ্চ এক বছরে ২৩ উইকেট ছিল শাহাদাত হোসেন রাজিবের। হাসানের সামনে সুযোগ আছে সংখ্যাটা আরও বাড়ানোর, কারণ এই ইনিংসের বাকি ৩ উইকেটসহ ক্যারিবীয়দের পরের ইনিংস এবং সিরিজের আরও একটা টেস্ট এখনো বাকি।
