কিশোরগঞ্জে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করা নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু পর্যাপ্ত ডাক্তার ও ওষুধ না থাকায় বেশির ভাগ রোগীকে ফিরতে হয় খালি হাতে। অনেকে ইন্টার্নি ডাক্তার দেখাতে পারলেও মিলে না সরকারি ওষুধ। ফলে সেবা না পেয়ে হেনস্তা হয়েই বাড়ি ফিরতে হয় বেশিরভাগ রোগীদের। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কিশোরগঞ্জের এ হাসপাতালটি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লোকবল না থাকায় অনেকটাই ভেঙে পড়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে আইসিইউ ও ইউরোলজি বিভাগ। বারবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ২০১১ সালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে চিকিৎসাসেবা শুরু হয় ২০২০ সালে। বর্তমানে ১২৩টি সৃজনকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯০ জন চিকিৎসক। ৩৩টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ খালি, নয়টি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে কোনো লোকবল নেই। খালি পড়ে আছে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি, ডেন্টাল ও এনস্থেসিওলজিস্ট পদগুলো। এ ছাড়া রেজিস্টার, সহকারী রেজিস্ট্রারের তিনটি পদ খালি। ডাক্তার-নার্স, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ১৪৮টি পদ শূন্য। চিকিৎসক ও এনস্থেসিয়া ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের আইসিইউ ও ইউরোলজি বিভাগ। মাত্র পাঁচটি বেড থাকলেও ডায়ালাইসিস রোগী হয় শতাধিক। ৩০ শয্যার সিসিইউ ইউনিটে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন অন্তত ৬০ রোগী। ৫০০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি থাকেন অন্তত সাড়ে ৬০০-৭০০ রোগী। কিন্তু লোকবল ও ওষুধ সংকটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মূল্যবান যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল না থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না এসব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় নষ্ট হওয়ার পথে এসব সম্পদ।
চিকিৎসা নিতে আসা বেশ কয়েকজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা শতকষ্ট করে দূর-দুরান্ত থেকে আসলেও ডাক্তারের দেখা পাইনা। সিরিয়ালে দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে গিয়ে দেখি ইন্টার্ন ডাক্তার বসে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে তাদেরই দেখিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। দুই একটা প্যারাসিটামল ও গ্যাস্টিকের বড়ি দিয়ে সান্ত¡না দেয় তারা।’
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও (আরপি মেডিসিন) ডা. মুহাম্মদ আবিদুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লোকবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। এক দিকে রোগীর চাপ বেশি অন্যদিকে ডাক্তার কম। আউটডোরে প্রতিদিন দেড় হাজারের মতো রোগী আসেন। তাই সবাইকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’
হাসপাতালটির পরিচালক ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, লোকবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য বারবার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
