আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে ১০৫ রান করতে পারলেই প্রথমবারের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা জিতবে সিলেট বিভাগ। ২০০০ সাল থেকে চলে আসা দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় একাধিকবার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জাগালেও কখনোই জাতীয় লিগ জিততে পারেনি সিলেট। আজ বরিশালকে হারাতে পারলে নিজেদের ঘরের মাঠেই শিরোপা জয়ের উৎসব করে ফেলতে পারবেন পুণ্যভূমির ক্রিকেটাররা।
পাঁচ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে সিলেট, ছয় ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট ঢাকার। পাঁচ ম্যাচে রংপুরের পয়েন্ট ২১। জাতীয় লিগে ম্যাচ জয়ের জন্য ৮ পয়েন্ট, ড্র-তে ২ পয়েন্ট আর ১০ উইকেট বা ইনিংস ব্যবধানে জিতলে ১ পয়েন্ট বোনাস। আজ জিতলেই সিলেটের পয়েন্ট হবে ৩৭, যা ঢাকার পক্ষে শেষ ম্যাচে বোনাস পয়েন্টসহ জিতলেও ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব হবে না। একমাত্র সিলেট হেরে গেলেই শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা টিকে থাকবে ঢাকার।
টস জিতে ঘরের মাঠে নিজেরা ব্যাট না করে বরিশালকে কেন ব্যাটে আমন্ত্রণ জানালেন বরিশালের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অমিত হাসান, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বরিশাল ৩০৪ রান করে তার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেছিলেন। পরে নিজেরা ব্যাট করতে নেমে ২১২ রানেই ৬ উইকেট হারানোয় বিপদ আরও ঘনিয়ে আসে। কিন্তু গতকাল তৃতীয় দিনের সকালে তোফায়েল আহমেদ (৬৪) রেজাউর রহমান রাজা (৩৫) নবম জুটিতে ৯৪ রান যোগ করলে প্রথম ইনিংসে শেষপর্যন্ত ৩৪২ রান করতে পারে সিলেট।
আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে সিলেটের বোলাররাও দারুণ বোলিংয়ে বরিশালকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানে গুটিয়ে দিয়ে জয়ের মঞ্চ তৈরি করে ফেলেন। খালেদ আহমেদ ৮ ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ব্যাটিংয়ে ৫৩ রান করা নাসুম আহমেদ ২ উইকেট নিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫০ শিকার পূর্ণ করেছেন।
লড়াইটা সিলেট-বরিশালের যেমন, তেমনি ছিল ইফতেখার আহমেদ ইফতি ও অমিত হাসানেরও; এই ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় লিগের এই মৌসুমের শীর্ষ রান সংগ্রাহক যে এই দুজন। অমিত এখন পর্যন্ত সিলেটের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ৫৬ রান করে দ্বৈরথে এগিয়ে, কারণ বরিশালের দুই ইনিংস মিলিয়েও ইফতির রান অমিতের সমান হবে না, ইফতি করেছেন ২০ ও ৭। এই সুযোগে খুলনার এনামুল হক (৩০, ৭৫) ও অমিত মজুমদার (১৮, ৭৫) চট্টগ্রামের বিপক্ষে রান করে ইফতিকে পেছনে ঠেলে শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় উঠে এসেছেন দুই ও তিনে। সিলেটে একাডেমি মাঠে জমে উঠেছে খুলনা-চট্টগ্রাম ম্যাচ। শেষদিনে খুলনার চাই ৩ উইকেট, চট্টগ্রামের ৮৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য ২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১১৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছে চট্টগ্রাম, ৪ উইকেট নিয়েছেন আল আমিন হোসেন। কক্সবাজারে ঢাকা মেট্রো-রংপুরের ম্যাচ নিশ্চিত ড্র-এর দিকে এগোচ্ছে। তিন দিনের খেলা শেষেও দুই দলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়নি। ঢাকা মেট্রোর প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৪৭৫ রানে, ১৮০ রান নাইম শেখের। জবাবে তৃতীয় দিন শেষে রংপুর ৯ উইকেটে ২৫৩ রান করেছে। ৮৮ রান করেছেন নাঈম ইসলাম।
