পদ্মার চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় সাত বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় ৩০ লাখ টাকার নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। রোগী পরিবহনে এটি চরবাসীর কোনো কাজে আসেনি।
দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে এটি। এতে উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলের আজিমনগর, সুতালড়ী ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
স্থানীয় ও হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় দুর্গত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি বেজড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হরিরামপুরসহ ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। হরিরামপুরে বরাদ্দ পাওয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে এ পর্যন্ত একজন রোগীও পরিবহন করা হয়নি। ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিন অচল। বর্তমানে উপজেলার আন্ধারমানিক ঘাটে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এটি।
সরেজমিনে গত ২৪ নভেম্বর আন্ধারমানিক ঘাটে দেখা যায়, কাত হয়ে পড়ে রয়েছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি। সামনের গ্লাস ও যন্ত্রপাতি ভাঙা। ভেতরে রোগী শোয়ার এবং রোগীর স্বজনদের বসার সিট নেই। পানি, শ্যাওলা ও কাঁদায় নোংরা হয়ে আছে। হালসহ বিভিন্ন জায়গায় মরিচা ধরেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। চরাঞ্চলবাসীর কোনো কাজেই আসেনি এটি। চরাঞ্চলের মানুষ আন্ধারমানিক ও বাহাদুরপুর ঘাটের ট্রলারে পারাপার হয়ে থাকে। রাতে কারও চিকিৎসা বা অন্য জরুরি প্রয়োজনে ঘাটের মাঝিদের ফোন দিলে তারাই পার করেন তাদের।
চরের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, চরবাসীর জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা তাদের কোনো কাজে আসেনি। এ পর্যন্ত চরাঞ্চলের কোনো রোগী বহন করা হয়নি। বর্তমানে আন্ধারমানিক ঘাটে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এটি।
আন্ধারমানিক ঘাটের ট্রলারচালক শাহীন বলেন, ‘রাত-বিরাতে দরকার হলে চরের লোকজন আমাদের ফোন করলে আমরা তাদের পার করি। নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে আন্ধারমানিক ঘাটে পড়ে আছে। লোকজনের কোনো কাজে আসেনি এটি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী বহনে ব্যবহার হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অকেজোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
