গুদামে আলু-পেঁয়াজ টানা ছেলেটিই চেলসি তারকা জ্যাকসন

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০৪ এএম

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার প্রতিজ্ঞা আর সে জন্য পরিশ্রম করে গেলে সাফল্য আসবেই, যার জ্বলন্ত্ব প্রমাণ নিকোলাস জ্যাকসন। সেনেগালের এই ২৩ বছর বয়সী ফুটবলারের প্রারম্ভিক জীবন ছিল ভীষণ সংগ্রামের। এখন তিনি চেলসির অন্যতম স্ট্রাইকার। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৭ ম্যাচে করেছেন ২৪টি গোল। গুদাম থেকে নিজেই পণ্যসামগ্রী ট্রাকে তুলছেন জ্যাকসন।

আফ্রিকার দরিদ্র দেশ সেনেগালে কঠিন জীবনযাপন করেছেন জ্যাকসন। খাবার জোটাতেই তার পরিবারের হিমশিম খেতে হতো। দেখেছেন দুর্ভিক্ষ, মহামারী। তাই চেলসির বড় তারকা হয়ে নিজের অতীত ভোলেননি জ্যাকসন। গত সেপ্টেম্বরে তাকে দেখা যায়, নিজ শহর সেনেগালের জিগুইঞ্চর এবং গাম্বিয়ার বানজুলের অসহায় মানুষের জন্য খাবার এবং পণ্যসামগ্রী পাঠাতে। এতে ছিল চাল, পেঁয়াজ, আলু, চিনি, স্থানীয় বাচ্চাদের জন্য কলম এবং বই।

চেলসির তরুণ স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসন।

শুধু তাই নয়, গুদাম থেকে নিজে কাঁধে করে ট্রাকে সেসব পণ্যসামগ্রী লোড করেছেন জ্যাকসন। মাস দুই আগের সেসব ছবি এবার নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। মানবিক কাজে তাকে সর্বদাই পাওয়া যায়। একবার সাবেক ক্লাব ভিয়ারিয়ালের সতীর্থদের থেকে পুরনো বুট এবং ফুটবল কিট সংগ্রহ করে সেনেগালের শিশু-কিশোরদের জন্য পাঠিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে পাঠিয়েছিলেন অর্থসাহায্য। জ্যকসন তার অতীত ভুলেননি।

চেলসির সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি ছিল জ্যাকসনের, যা এখন ২০৩৩ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। ব্রিটিশ মিডিয়া জানিয়েছে, এটাই প্রিমিয়ার লিগের দীর্ঘতম চুক্তি। তবু নিজের শেকর ভুলেননি জ্যাকসন। একটি সূত্র ‘সান’কে বলেছিল, ‘জ্যাকসন সবসময়ই তার শেকড়ের প্রতি টান অনুভব করেন। যেখানে তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা, সেখানকার মানুষগুলোর জন্য সবসময়ই কিছু করার চেষ্টা করেন।’

ভিয়ারিয়াল থেকে ২০২৩ সালে চেলসিতে যোগ দেন জ্যাকসন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তার জার্সি নাম্বার ১৫। এই নম্বরের জার্সি পরতেন সাবেক আফ্রিকান সুপারস্টার দিদিয়ের দ্রগবা, যার সঙ্গে ইদানিং জ্যাকসনের তুলনা করা হয়। তবে জ্যাকসনের এতে ঘোরতর আপত্তি আছে। তিনি দ্রগবাকে ‘কিংবাদন্তি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। অবশ্য চেলসির হয়ে গোলের রেকর্ডে ইতোমধ্যে দ্রগবাকে ছাড়িয়ে গেছেন। ৫৭ ম্যাচে দ্রগবার গোল ছিল ২৩টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত