আগরতলায় বাংলাদেশি দূতাবাসে হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল 

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৪৩ পিএম

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে মশাল মিছিল বের করেন তারা।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম নাইম।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয়  আগ্রাসন, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘দূতাবাসে হামলা কেন, মোদি তুই জবাব দে’, ‘তুমি কে আমি কে, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘মোদির দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘মমতার দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক তৌহিদ সিয়াম বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হলে সবার আগে স্মরণ করতে হবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান। এই গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে বিদায় করার অভ্যুত্থান ছিল না। আমরা অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলাম, শেখ হাসিনা ভারতের পুতুল ছাড়া আর কিছুই না। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে করা এক অভ্যুত্থান। শুধু শেখ হাসিনাকে বিদায় করার মাধ্যমে যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে পরিপূর্ণ করতে চায় এবং চব্বিশকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায় তারা ভারতীয় দালাল। কিন্তু এই বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিতেও যতদিন পর্যন্ত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিস্তার থাকবে ততদিন এই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরিপূর্ণ হবে না। শক্তিশালী স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে নিরস্ত্র যুদ্ধ করে সরাতে মাত্র ৩৬ দিন লেগেছে। অস্ত্র হাতে তুলে নিলে এই বাংলার মাটিতে কোনো আধিপত্যবাদী এই বাংলার মাটিতে স্থান পাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, যেসব ভারতীয় দালালরা এখনো দেশের মিডিয়া ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন সেক্টরে রয়েছে তাদেরকে বরখাস্ত করতে হবে।

এসময় গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, যখনই আমরা ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং হিন্দুত্ববাদের কথা মনে করি তখনই আমাদের মনের পড়ে আমার ভাই আইনজীবী সাইফুল এবং আবরারের কথা। আমরা বলে দিতে চাই, বাংলাদেশ আর ভারতের সম্পর্ক শুধু দ্বিপাক্ষিক সমতার নীতির বাইরে কিছু না। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা দল, মত, ধর্মীয় মতাদর্শ, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে গিয়ে এক হতে একমুহূর্ত দেরি করব না। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশের কোনো একটি অঞ্চলে যদি অন্যায়ভাবে হামলা করা হয় তাহলে বাংলার জনগণ সেটা সহ্য করবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত