নতুন ভোটার তালিকা ২ মার্চ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১১ এএম

চলতি বছর যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের চূড়ান্ত তালিকা আগামী বছর ২ মার্চে প্রকাশ করা হবে। এ সময় যারা বাদ পড়েছেন এবং ২০২৫ সালে যারা নতুন করে ভোটার হবেন তাদের তথ্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হবে। ওই ভোটারদের হালানাগাদের তথ্য ২০২৬ সালের ২ মার্চ প্রকাশ করা হবে।

গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশনের প্রথম বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ভোটার তালিকা আইন-২০০৯ অনুযায়ী, প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে এই বার্ষিক হালনাগাদ বাধ্যতামূলক। তবে বিশেষ সংশোধনের এখতিয়ার রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সংসদ নির্বাচনের আগে সম্পূরক ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে পারে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ১৭ লাখ ডেটা আমাদের হাতে আছে। যেটা ১ জানুয়ারি সন্নিবেশিত করব। তারা নতুন ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে। তবে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, এই ডেটাটা পূর্ণাঙ্গ হয় না। এই সংখ্যাটা আনুমানিক ৪৫ লাখ হতে পারত।

তিনি বলেন, আমাদের হাতে যে ১৭ লাখ ডেটা আছে তার মধ্যে ১৩ লাখ ডেটা ২০২২ সালে সংগ্রহ করেছিলাম। আর মাত্র চার লাখ বিভিন্ন অফিসে এসে এ বছর ভোটার নিবন্ধন করেছেন। অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি কমবেশি ২৭ থেকে ২৮ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হননি, কিন্তু ভোটার হওয়ার যোগ্য।

এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘এই বাস্তবতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ২ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশের পর শুনানি, দাবি-আপত্তির পর ২ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। কিন্তু যারা বাদ পড়ল আমরা চাই যে তারা আমাদের ভোটার তালিকায় সন্নিবেশিত হোক। এজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করব। এই বাদ পড়া ভোটাররা ছাড়াও ২০২৫ সালে যারা ভোটার হবেন, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন তাদের তথ্য আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করব।’

এ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে উল্লেখ করে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ভোটার তালিকাটি চেক করে নিতে পারব। বাড়ি বাড়ি গেলে মৃত ভোটারদের বাদ দেওয়া সহজ হবে। ডুপ্লিকেশন থাকলে বা কোনো সমস্যা থাকলে তা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারব। এতে আমাদের ছয় মাস হয়তো সময় লাগবে। এই ছয় মাস সময়ের সঙ্গে আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

গত ২ মার্চ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে ১২ কোটি ১৮ লাখের বেশি ভোটার রয়েছেন। আসছে জানুয়ারিতে নতুন ভোটার যুক্ত হবেন প্রায় ১৭ লাখ। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি যারা যোগ্য হবেন আগামী বছর হালনাগাদের সময় তারা ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি শুদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা, যেখানে সঠিকতা যেন শতভাগ নিশ্চিত করতে পারি। তার পাশাপাশি যারা প্রাপ্তবয়স্ক তারা যেন ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং পরবর্তীতে ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য তারা কেউ যেন বাদ না পড়েন।’

বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবেÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এটি সচিবালয় থেকে ঠিক হবে। আমরা চাচ্ছি যে যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শুরু করা যায়। তবে ধারণা করছি, আগামী বছর ২ মার্চের পর থেকেই শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি নীতিগত সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি, যখনই কোনো একটি নির্বাচন আমাদের সামনে আসবে, আমাদের চেষ্টা থাকবে তফসিল ঘোষণার আগে একটা সময় পর্যন্ত যেন, যদি বিশেষ কোনো অর্ডিন্যান্স জারি করে হোক সবাই যেন আমরা ভোটারযোগ্যদের তালিকাভুক্ত করতে পারি।’

সিইসির সঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে গতকাল সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস। সাক্ষাৎ শেষে লুইস সাংবাদিকদের বলেন, ‘নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আজ আমরা প্রাথমিক সাক্ষাৎ করেছি। আমরা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন জানাতে এসেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে জাতিসংঘ কী ধরনের কারিগরি সহায়তা (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) দিতে পারে, এ বিষয়ে সিইসির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আনন্দের বিষয় এই নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে গঠিত হয়েছে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থন পাবে। আমরা এই কমিশনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করব।’

এ সময় ইসি সচিব শফিউল আজিম বলেন, ‘জাতিসংঘ কীভাবে কমিশনকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণসহ কমিশনের অন্যান্য প্রয়োজনীয়তাগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের কাজ করছি। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত