বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো হয়েছে। ৪৭তম বিসিএস থেকে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর হবে ১০০। নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় পরিবর্তন আনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। গত রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে বিসিএসে অনিয়ম কমবে বলে মনে করছেন প্রশাসনসংশ্লিষ্টরা।
২০১১ সালে বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করা হয়। এতে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পছন্দের প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ হয়। অনেক প্রার্থীকে ২০০ থেকে ৭০ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীকে ১৯০ দেওয়া হয়। এভাবে পক্ষপাত করা হয়েছে বলে নানা মহল থেকে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর দাবি ওঠে। কিন্তু সেসব দাবি আমলে নেয়নি ওই সময়ের সরকার। সরকারের মনোভাব টের পেয়ে পিএসসির কোনো চেয়ারম্যান মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে সংস্কার আনার চেষ্টা করেননি। কিন্তু ওই সময়ের সব চেয়ারম্যান বিষয়টির ঠিক নয় বলে মনে করতেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানালেও তা কখনো অফিশিয়ালি বলতেন না।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিসিএসে একচেটিয়া নিয়োগ দেওয়ার জন্য মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হয়েছিল। সোজা কথায়, পছন্দের লোক নিয়োগ দেওয়ার রাস্তা করা হয়েছিল। পিএসসির নম্বর কমানোর এ সিদ্ধান্ত খুবই ভালো হয়েছে। এতে দলীয়করণও কমবে।’
গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পিএসসি সচিবালয়ের সচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয় ‘লিখিত পরীক্ষার ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০০-এর বদলে ১০০ এবং সর্বমোট নম্বর ১১০০-এর পরিবর্তে ১০০০ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।’ পিএসসি-সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরিবর্তন করারও অনুরোধ জানায়।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার অন্যান্য সেক্টরের মতো জনপ্রশাসনেও সংস্কার করার জন্য কমিশন গঠন করে। কমিশনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সরকার বিসিএস পরীক্ষার বিষয়ে বড় দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কোনো প্রার্থী চারবারের বেশি বিসিএসে অংশ নিতে পারবেন না। অন্যটি হচ্ছে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাহাবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর এ সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী। অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। মৌখিকে ১০০ নম্বরের বেশি নম্বর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্বজনপ্রীতির পথ বন্ধ হবে।’
মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো হলেও লিখিত পরীক্ষার নম্বর অপরিবর্তিত আছে। লিখিত ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় বাংলা ২০০, ইংরেজি ২০০, বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ১০০, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা ১০০, সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
গত রবিবারের চিঠিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন ছাড়াও আবেদন ফি পুনর্নির্ধারণ করার কথা বলা হয়। এ কারণে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ পরিবর্তন করতে হবে।
গত ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। তাতে আবেদন ফি আগের মতো ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত প্রার্থী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ধরা হয় ১০০ টাকা। তবে এই বিজ্ঞপ্তির কয়েক ঘণ্টা পরই আবেদন ফি কমানোর ঘোষণা দেয় কমিশন। এবার বিসিএসে মোট শূন্য ক্যাডার পদের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭ আর নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা ২০১। এই বিসিএস থেকে ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। অনলাইনে আবেদন শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টায়, শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে। সব ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।
