চট্টগ্রাম

আইনজীবী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কে এই চন্দন দাস?

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:২৮ পিএম

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চন্দন দাস (৩৫) গ্রেপ্তার এড়াতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শ্বশুর বাড়িতে আত্মগোপন করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশের কাছে হার মানে চন্দনের কৌশল। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দিবাগত ১২টার দিকে ভৈরবে রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় আনা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চন্দন ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জে আসছেন এমন তথ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পেয়েছিল। তিনি ট্রেনে ওঠার পর তথ্যটি জানানো হয় ভৈরব থানা পুলিশকে। তবে তিনি সরাসরি ট্রেনে ভৈরবে আসেননি। ট্রেন পরিবর্তন করায় তার আসতে দেরি হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে ভৈরব রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কে এই চন্দন দাস? 

পুলিশ বলছে, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কমলা রংয়ের টিশার্ট, মাথায় সিলভার রংয়ের হেলমেট পরা এক যুবককে আইনজীবী আলিফকে কোপাতে দেখা যায়। সেই যুবকটিই গ্রেপ্তার হওয়া চন্দন দাস। তিনি চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার সেবক কলোনির মেথরপট্টির ছেলে।

ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিন মিয়া বলেন, চন্দন দাস আত্মগোপন করতে শ্বশুর বাড়িতে আসছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নানা কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি সরাসরি ট্রেনে ভৈরব আসেননি। ট্রেন পরিবর্তন করে আসেন। সম্ভাব্য সময়ের চার ঘণ্টা পর চন্দনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পুলিশ জানায়, ভৈরব স্টেশনে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে চন্দনের নেমে পড়ার কথা ছিল। অনেক আগে থেকেই সাদা পোশাকে স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ। প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করার সম্ভাব্য সব জায়গা ঘিরে ফেলা হয়। ট্রেন আসে ট্রেন যায়, চন্দন আর নামেন না। অবশেষে তিনি ট্রেন থেকে নামেন রাত ১১টার পর। পুলিশের হাতে ধরা পড়েন রাত ১২টায়। এ সময় তার মুখে মাস্ক পরা ছিল। তখন তিনি একটি ব্যাগ হাতে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মুখে মাস্ক থাকায় চন্দনকে প্রথমে চিনতে সমস্যা হচ্ছিল।

ডিবি পুলিশ আগেই চন্দনের শার্ট ও প্যান্টের রং জানিয়েছিল। ধরা পড়ার পর তিনি নাম–পরিচয় গোপন করেননি। গ্রেপ্তারের পর চন্দনকে ভৈরব থানায় আনা হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে তিনি আইনজীবী হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করছিলেন। পরে ভিডিও দেখানো হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত