দরবার-ই-জহুর

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৭ এএম

পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি দৈনিক সংবাদে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জহুর হোসেন চৌধুরী ‘দরবার-ই-জহুর’ কলামে তৎকালীন সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস ক্লাবের অন্যতম উপদেষ্টা এই সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ১৯৮০ সালের ১১ ডিসেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মারা যান। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। অতীতের সঙ্গে অধুনার সংযোগ ঘটাতে ছাপা হলো তার লেখা উপসম্পাদকীয়

দিন তারিখ মনে নেই, তবে এক যুগের কম হবে না। দুপুর প্রায় আড়াইটার সময় চারু-কারু মহাবিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে মিন্টো রোডের দিকে যাচ্ছি। ডাক শুনলাম, ‘এই জহুর সাহেব।’ দেখি, আবেদীন ভাই গেটে দাঁড়িয়ে আমাকে হাত নেড়ে ডাকছেন। থামতে হলো এবং গাড়ি থেকে নেমে তার সামনে হাজির হতে হলো। ‘আপনি ত আচ্ছা লোক! এ জিনিসটা এত কষ্ট করে দাঁড় করালাম, আর আপনি একদিন দেখতেও আসলেন না, আমার সঙ্গে খানিকক্ষণ বসে গল্প করার সময় আপনার মতো ব্যস্ত লোকের নেই, সেটা না হয় বুঝলাম।’ একেবারে জুতোর বাড়ি খেলাম, তবু পাল্টা আক্রমণ করলাম, ‘এ রকম বিল্ডিং অনেক জায়গায় ঢের ঢের দেখেছি, ঢাকার মতিঝিলেই ত দেখছি প্রায় মাসেই কিম্ভূতকিমাকার বিরাট আকারের বিল্ডিং একটা না একটা দ-ায়মান হয়ে আমাদের পুঁজি গঠনে তরক্কির সাক্ষী দিচ্ছে। সুতরাং এ বিল্ডিংটা এমন কি দেখার বস্তু হলো? আর আপনার সঙ্গে আড্ডা মারার সময় আমার যথেষ্টই আছে।’ ‘তবে আসেন না কেন?’ ‘আপনি ত জানেন, রাগ করে। আমি কলকাতায় যে জয়নুল আবেদীনকে জানতাম, যার মধ্যে এক সীমাহীন সম্ভাবনার কথা শিল্পরসিক লোকজনের মুখে মুখে উচ্চারিত হতো, সে জয়নুল আবেদীন ত পাকিস্তান হওয়ার পর সে সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে গেছেন। আপনি ত এখন প্রিন্সিপাল জয়নুল আবেদীন, আর্টিস্ট জয়নুল আবেদীন নন। অর্থাৎ একজন উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার হিসাবে আপনি এখন ত ফাইলবাজি করেন, ছবি ত আর নেশাগ্রস্ত লোকের মতো আঁকেন না, যেভাবে আঁকতে দেখেছিলাম কলকাতার পার্ক সার্কাসের সার্কাস রোডে সেই আট ফুটের মতো চওড়া আর চৌদ্দ ফুটের চেয়েও কম লম্বা ঘরটিতে।’ 

আবেদীন ভাইয়ের হাসিমাখা মুখটা সেকেন্ডের জন্য লাল হয়ে আবার তাঁর প্রাণমাতানো সরল হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ‘বটে! আসুন আমার সঙ্গে। আমি এখনই আপনাকে দেখাব কেবল একটা বিল্ডিং তৈরি করেছি, না আরও কিছু আছে এর মধ্যে। আর আপনার পুরনো গোস্সাটাও দূর করার চেষ্টা করব।’ ‘ক্ষিধেয় পেট চোঁ চোঁ, পথে একটা বাড়িতে পাঁচ মিনিটের জন্য থেমে বাড়ি ফিরে আজ পেটটা ঠান্ডা করতে দিন। আর একদিন আসব।’ ‘তা হবে না। আপনাকে আমি চা-নাস্তা খাওয়াব। অবেলায় আজ ত আপনি আর প্রথম খাবেন না। এটুকু সহ্য করতে পারবেন না? আপনি ত জানেন, এক সময় আমার দিনের পর দিন খাবার জোটেনি। আজ আপনাকে ছাড়ছি না।’... বলে আমাকে এক রকম হিড় হিড় করে টেনে ভিতরে নিয়ে গেলেন। ঘুরে ঘুরে তার প্রতিষ্ঠানটির সব বিভাগ আমাকে দেখালেন। সামনের ও পাশের লনে, গাছতলায় ছেলেমেয়েরা ইজেল পেতে আঁকছে। সবই দেখালেন। দু’চারজন বিদেশিনীকেও দেখলাম। চিত্রাঙ্কন এমন কিছু অর্থকরী বিদ্যা নয়। অধিকাংশ আর্টিস্টকেই দারিদ্র্য ও দুর্দশার মধ্যে জীবন কাটাতে হয়, সব দেশের ব্যাপারেই এ কথাটি সত্য। আমাদের দেশে বিত্তের আকাক্সক্ষাটা তখনো মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে উদগ্রভাবেই বর্তমান ছিল। সুতরাং আমাদের এতগুলো ছেলেমেয়ে অধিকতর অর্থকরী পেশার পশ্চাদ্ধাবন না করে চিত্রাঙ্কনের দিকে ঝুঁকেছে দেখে খুবই ভালো লাগল।

দোতলায় তাঁর কামরায় প্রবেশ করেই বললেন, ‘এই যে দেখলেন, এগুলো কি সম্ভব হতো যদি আমি নিজেই ছবি আঁকার নেশা নিয়ে পড়ে থাকতাম? আপনি আমার কাছে কয়েকবারই অভিযোগ করেছেন, আমি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের লাইনে আসায় আমার শিল্পী-জীবনের ক্ষতি হয়েছে, দেশকে আমি বঞ্চিত করেছি। প্রথম শ্রেণির শিল্পীই একমাত্র আঁকার নেশাতেই মশগুল থাকেন, অন্য কোনো দিকে মন দেওয়ার সময় তাদের হয় না। এসবই সত্যি। কিন্তু আপনি ত জানেন, আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থা চিত্রাঙ্কন শিল্প বিকাশের কত প্রতিকূল। এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে আমাকে কত লাঞ্ছনার ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি চাই, চিত্রাঙ্কন শিল্পটি একটি আন্দোলনের আকারে গড়ে উঠুক। আমার দেশ এ ব্যাপারে দুনিয়ার শিল্পজীবনে নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করতে পারুক। এতে আমার নিজের ক্ষতি যা হচ্ছে, তা খুশিমনেই মেনে নিয়েছি। তবে আমি আমার কাজ অনেকটা সেরে এনেছি। আপনাকে ধরে নিয়ে আসলাম এ বিল্ডিং দেখাতে নয়, যে ছেলেমেয়েগুলোকে আপনি দেখলেন তাদেরই দেখাতে। কে জানে এঁদের মধ্য থেকেই একদিন ভ্যান গগ, মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর মতো আর্টিস্ট জন্মাবে না। আপনি ত জানেন পরিবেশ এঁদের প্রতিভার স্ফুরণে কতটা সাহায্য করেছিল।’ ‘ব্যক্তিগত প্রতিভা পরিবেশের ঊর্ধ্বে উঠেই তার স্বাক্ষর রাখে’, আমার এ কথার জবাবে তিনি উত্তর দিলেন, ‘কদাচিৎ। এ অনেকটা দৈবের ওপর নির্ভর করে থাকার মতো। দেশের মানুষকে সাধারণভাবে শিল্প-সচেতন করে তুললেই প্রতিভার অন্তত নিম্নতম স্ফুরণ সুযোগ পায়, সহজ হয়।’ ‘তার জন্য প্রয়োজন সামাজিক পরিবেশে আমূল, বৈপ্লবিক পরিবর্তন।’ ‘ঐ ত আছে আপনাদের রাজনীতিমনা মানুষদের এক বাঁধা বুলি। যতদিন সে পরিবর্তন না হয়, ততদিন কি হাত পা গুটিয়ে বসে থাকব? আর আমি সমাজের সে পরিবর্তনের সংগ্রামে আছি আমার ভাবে। এই আর্ট স্কুলটিকে গড়ে তোলাও সে সংগ্রামের অংশ বলে মনে করি।’ এর মধ্যে চা, বিস্কুট এসে গেল। আবেদীন ভাই বলে চললেন, ‘আপনাকে আমি ত কতবার বলেছি, আমি তাজমহলের ছবি, মোগল মহষিদের ছবি আঁকি না, কারণ তারা এবং সে সমাজের আধুনিক সংস্করণ আমার মাথায়, মনে নেই। আমি কারও ‘কোর্ট পেইন্টার’ নই। জানেন কোনো বড়লোক আমাকে বলেছিলেন, তাঁর ছবিতে নাম লিখে দেওয়ার জন্য, যথেষ্ট পারিশ্রমিক দেবেন। দেশ বিভাগের পর ঢাকায় আসার পর দেখি, আমার কোনো চাকরি হচ্ছে না। শিক্ষা ডাইরেক্টরেটের একজন উচ্চপদস্থ অফিসার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি হাইস্কুলের ছাত্রদের ড্রইং শেখাতে পারব কিনা। এ সবই ত আপনাকে আমি তখনই বলেছি। (এ, ডি, পি, আই ভদ্রলোক আমারই জেলার লোক ছিলেন। তিনি এমনিতে অতি সজ্জন লোক ছিলেন। বেশ কিছুদিন হয় মারা গেছেন।) আজ দেশের অবস্থার অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। এর জন্য আমাকে অনেক ধরনের সরকারি কর্তাদের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে। এ বিড়ম্বনায় আমার কোনো খেদ বা অপরাধবোধ নেই, কারণ এটা আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ উদ্ধারের জন্য করিনি। আমার সহকর্মীরাও অনেকে আমাকে ভুল বুঝেছেন, এখনো তাদের অনেকের মনে আমার সম্বন্ধে ক্ষোভ যে আছে, তা আমি জানি। কিন্তু আমি কী করব? যাক, আমি শিগগিরই ঝামেলা আরও কমিয়ে ফেলে, সম্ভব হলে একেবারে মিটিয়ে দিয়ে নিজের কাজ শুরু করব। আপনি জানেন না, এতসব কাজের মধ্যেও আমি ছবি আঁকা একেবারে ছেড়ে দিইনি। আমার বাড়িতে একদিন আসেন, আপনাকে দেখাব। আমি পূর্ব বাংলার পচা পুকুর, ডোবা, কৃষকের ঝড়ে উড়ে-যাওয়া কুঁড়েঘর, তারই জীবন সংগ্রামের, তারই সুখ, দুঃখ, প্রেমের পটুয়া। দেখি এঁদের জীবনের ছবি আমার তুলিতে আরও ভালো করে ধরতে পারি কিনা।’

শেষের ক’বছর সোনারগাঁয়ে লোকশিল্পের জাদুঘর প্রতিষ্ঠার নেশাটা জয়নুল আবেদীনকে এমনভাবে পেয়ে বসেছিল যে, তাঁর বর্ণনা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এদেশের লোকসংস্কৃতির যে চিহ্নগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোকে সংগৃহীত করে বাঁচাবার ব্যবস্থা না করলে সামগ্রিকভাবেই আমাদের সাংস্কৃতিক জীবন সুস্থ হবে না, সমৃদ্ধির পথ খুঁজে পাবে না। ১৯৪৩-এর মন্বন্তরকে তাঁর তুলিতে ধরার চেষ্টা করছেন। কঙ্কালসার মৃত মা ও তার জীবন্ত শিশু, মৃতদেহ আর কাক এসব ছবিই তখন তিনি তাঁর তুলির দু’চারটি বলিষ্ঠ টানে ফুটিয়ে তুলছেন। সে দুর্ভিক্ষে সরকারি হিসেবেই বাংলার চল্লিশ লাখ লোক মারা গিয়েছিল। সব সরকারের ন্যায় তদানীন্তন সরকারও এ অকল্পনীয় ট্র্যাজেডিকে দুনিয়ার সামনে ধামাচাপা দেওয়ার অন্তত খাটো করে দেখাবার চেষ্টাই করেছিলেন। একদিন শুনলাম, কমার্শিয়াল মিউজিয়াম হলে জয়নুল আবেদীনের চিত্রপ্রদর্শনী হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে। চিত্রকলা সম্বন্ধে আমি একেবারে আনপড়। তবু গেলাম। সেদিনের অভিজ্ঞতা ভুলতে পারব না। মনে হলো, একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে গিয়ে পড়েছি। অথচ প্রত্যহ আমাদের চোখের সামনেই একের পর এক হাজারে হাজার প্রেতের মতো লোকগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল।

জয়নুল আবেদীনের তুলিই ট্র্যাজেডির আসল ও বিশাল রূপটা সেদিন আমার চোখের সামনে প্রথম তুলে ধরেছিল। এ সময়েই দেখলাম ‘জনযুদ্ধে’ এগুলো ছাপা হচ্ছে। এরই কিছুদিন পরে ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের দৌহিত্রী এলা রীড (রীড সাহেব সে সময়ে স্টেটসম্যান পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন) জয়নুল আবেদীনের চিত্রকলা সম্পর্কে স্টেটসম্যান পত্রিকায় সচিত্র প্রবন্ধ সিরিজ লিখতে শুরু করেন। ব্যস। এতে যে জয়নুল আবেদীন দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন এটা বড় কথা নয়, বাংলার লাখ লাখ কৃষক সন্তানের মানুষের সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে করুণ মৃত্যুর কাহিনী সারা দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও বাংলা সরকারের মাথা হেঁট করল। তুলি রূপান্তরিত হলো মৃত্যুর বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনতার বর্শার ফলকে। স্টেটসম্যান পত্রিকা তখন পৃথিবীর প্রথম শ্রেণির কয়েকটি সংবাদপত্রের একটি বলে পরিগণিত হতো। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পত্রপত্রিকায় জয়নুল ভাইয়ের দুর্ভিক্ষের ছবি পুনর্মুদ্রিত হলো। কারা জানি তাঁকে আখ্যা দিল People’s artist  (জনগণের চিত্রশিল্পী) হিসেবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ নামের মর্যাদা রাখার চেষ্টা তিনি করে গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে একদিন দুপুরবেলায় বন্ধুবর সাইয়িদ আতীকুল্লাহ আমার ছোট ঘরটিতে প্রবেশ করা মাত্র বুঝলাম কিছু একটা সাংঘাতিক ব্যাপার ঘটেছে। আগের দিন রাতেই তাঁর আমার এখানে আসার কথা ছিল। তিনি না আসাতে মনটা চঞ্চল ছিল। ঘরে ঢুকেই তিনি বললেন, ‘রাতে আসতে পারিনি, কারণ আবেদীন ভাই যেকোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। তাঁর কষ্ট আর দেখা যায় না।’ পাথর হয়ে গেলাম। কথায় কথায় তিনি বললেন, ‘ভালো মানুষ হলে, অর্থাৎ হৃদয়বৃত্তিটা একটু বেশি পরিমাণে থাকলে আর তার সামাজিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলে শিল্পীর প্রাথমিক দায়িত্বে ব্যাঘাত ঘটে। আবেদীন ভাইয়ের ক্ষেত্রে তাই হয়েছিল। অন্যের সুখ-দুঃখের সঙ্গে তিনি জড়িয়ে পড়তেন, দেশের কল্যাণের চিন্তাও তাঁর মাথায় সব সময়েই ছিল। শিল্পীকে থাকতে হয় একা, নিজের কাজের নেশায় মেতে। প্রয়োজন হলে হতে হয় অমানুষ। আবেদীন ভাই তা পারেননি। এর মূল্য শিল্পের ক্ষেত্রে তাঁকে দিতে হয়েছে এবং তিনি তা খুশিমনেই দিয়েছেন।’ আশ্চর্যও হলাম চিন্তার একই খাত দেখে। আবেদীন ভাই মহৎ শিল্পী ছিলেন। মানুষ হিসেবে তিনি মহত্তর। আবেদীন ভাইয়ের বিদেহী আত্মা শান্তি লাভ করুক। আল্লাহ তাঁর রুহকে মাগফিরাত দান করুন। (ঈষৎ সংক্ষেপিত)

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ

৪ জুন ১৯৭৬

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত