রাজধানীর বংশালের একটি মাদরাসার খাবার খেয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।
আজ শনিবার রাত ৮টার দিকে তারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। তারা সবাই বংশাল আল জামিয়া মদিনাতুল উলুম মাদরাসার নাজেরানা, কিতাবখানা, হেফজ ও নুরানী বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া শিক্ষক ও কর্মচারীও রয়েছেন।
মাদরাসাটির প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, মাদরাসাটিতে ১৭০ জন শিক্ষার্থী। যাদের অধিকাংশই শিশু। শুক্রবার দুপুরে মাদরাসায় মুরগি দিয়ে বিরিয়ানি রান্না হয়। দুপুরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্টাফরা সেই বিরিয়ানি খান। একই সময়ে কোনও ব্যক্তি বা কোনও সংগঠন থেকে রান্না করা গরুর বিরিয়ানি দিয়ে যায়। যেহেতু তখন তারা দুপুরের খাবার খেয়ে ফেলেছেন, সেজন্য গরুর বিরিয়ানি রেখে দেন রাতের জন্য। রাতে সবাই একত্রেই সেই গরুর বিরিয়ানি খান। এরপর শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই একেক জন অসুস্থতাবোধ করতে থাকেন। সারাদিন অসুস্থ্যবোধ করার পর সন্ধ্যার পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। গরুর মাংসের বিরিয়ানি কারা রান্না করে দিয়ে গেছেন সেটি তিনি জানেন না।
ভুক্তভোগী মাদরাসাটির বাবুর্চি সৈয়দ আবুল হোসেন জানান, গতকাল দুপুরের মুরগির বিরিয়ানি তিনি নিজে রান্না করেছিলেন। তবে দুপুরে গরুর যে বিরিয়ানিটি দিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটি কারা রান্না করেছে এবং কারা দিয়ে গেছে সেটি তিনিও জানেন না। তার ধারণা, রাতে সেই গরুর বিরিয়ানি খাওয়ার কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এদিকে মাদরাসাটির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাতে খাবার খেয়ে যখন তারা ঘুমিয়ে পড়েন তখনও কোনো সমস্যা অনুভব করেননি। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠেই তারা শরীর খারাপ অনুভব করেন। পাতলা পায়খানা, বমি, মাথা ব্যথা ও পেট ব্যাথা শুরু হয়।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে তাদের ফুড পয়জনিং হয়েছে। সবাইকে মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিক্ষা নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে।
