পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সদ্য সমাপ্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা ও জগধাত্রী পূজা পালনে মিথ্যে তালিকা জমা দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ সাওজালের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ১৮টি পূজামন্ডপের নামে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি মন্ডপ থেকে ৫০০ কেজি জিআর চালের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা। তৎকালীন মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগসাজশে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা দাবি করেন। এ ঘটনায় গত ১৪ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঠবাড়িয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ সাওজাল এবং ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী সঙ্গী হিসেবে আরও পাঁচ থেকে সাতজন মিলে অতিরিক্ত পূজা মন্ডপ দেখিয়ে অনেক দিন ধরে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। দুর্গাপূজা ও জগধাত্রী পূজা মিলে উপজেলার ১০৩টি ম-পের তালিকা দেয় পূজা উদযাপন পরিষদ। এ তালিকা থেকে একাধিক মন্ডপের কোনো টাকা জমা দেননি। তা ছাড়া চাল সরকারি রেট অনুসারে ৬০ টাকা থাকলেও ৩৮ টাকা দরে বিক্রি দেখান তারা।
বড়শিংগা সর্বজনীন শ্রী শ্রী গোবিন্দ ও দুর্গা মন্দিরের সহ-সভাপতি কেশব চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের এখানে দুর্গা ও জগধাত্রী পূজা হয়নি। কিন্তু আমাদের নামে বরাদ্দ নিয়ে পূজা উদযাপন কমিটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কর্মকার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ১০৩টি মন্ডপে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর ভেতরে ৬২টি দুর্গাপূজা ও ৪১টি জগধাত্রী পূজা ছিল। যারা দুর্গাপূজা ও জগধাত্রী পূজা করেছেন সবাইকে এক হাজার কেজি চালের মূল্য হিসেবে ৩৮ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। যারা শুধু একটি পূজা করেছেন তাদের ১৯ হাজার ৫০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।’
সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ সাওজাল বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি খারাপ থাকায় আমি এলাকায় ছিলাম না। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি। এবারের তালিকা তৈরিতে সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেছেন।’
পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অলোক চক্রবর্তী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া অভিযোগের একটি অনুলিপি পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটির কাছেও পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।’
অভিযোগ সম্পর্কে সদ্য বদলি হওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা বিষয়টি সম্পর্কে ভালো জানবেন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুর্গাপূজা ও জগধাত্রী পূজার বরাদ্দ দিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পূজা উদযাপন কমিটি থেকে আমরা তালিকা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠাই। পরবর্তী সময়ে এর পরিপ্রেক্ষিতে বরাদ্দ হয়। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
