ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আজ প্রতীক্ষিত বৈঠক

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৯ এএম

বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের টানাপড়েনের মধ্যেই আজ সোমবার বাংলাদেশে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। ঢাকা পৌঁছেই তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) যোগ দেবেন। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর রাতেই ঢাকা ত্যাগ করবেন। মূল বৈঠকের আগে দুই পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে একান্ত আলোচনার সম্ভাবনা আছে। গত সেপ্টেম্বরেই এ বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের বিষয়টি ঢাকার পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হতে পারে বৈঠকে। এ ছাড়া ভারতে বাংলাদেশ মিশনে নিরাপত্তা, সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নিত্যপণ্য আমদানি, ভিসা ইস্যু ইত্যাদি নিয়েও আলোচনা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, এফওসিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে যত উপাদান আছে, সবই রাখার চেষ্টা করা হয়। আলোচ্যসূচি ঠিক করার ক্ষেত্রে দুপক্ষের সম্মতিও লাগে। তবে সাধারণভাবে যেটা বলা যায়, বাণিজ্য আছে, কানেকটিভিটি আছে, সীমান্ত আছে, পানি আছে। এ বিষয়গুলো আলোচনাতে থাকবে।

ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে এটিই হবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার প্রথম ঢাকা সফর। এর আগে গত বছর ২৪ নভেম্বর দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে এফওসি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। তবে এক বছরের ব্যবধানে দুই দেশেরই পররাষ্ট্র সচিব পরিবর্তন হয়েছে। এবার ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এফওসিতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন। আর ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হতে থাকে। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি গত ৫৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে অস্থিতিশীল হয়। তাই ভরসা এখন এফওসি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম ভারতের কোনো শীর্ষ কূটনীতিক ঢাকায় আসছেন। অবশ্য ৫ আগস্টের পর গত চার মাসে দুই দেশের তিনটি টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক হয়েছে। তবে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এখনো হয়নি। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন অনেকটা প্রশমিত হতে পারে বলে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নিশ্চয়ই একটা গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এটা মেনে নিয়ে সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আমাদের চেষ্টা করতে হবে।’ তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ^াস করি, আমরা (ঢাকা-দিল্লি) স্বাভাবিক সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আর এফওসি হবে সেদিকে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ। এফওসির মধ্যে দিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বাস্তবসম্মতভাবেই এগিয়ে যেতে পারে।

এদিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এফওসি সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার দিল্লিতে বলেন, ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সফর নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এফওসি নিয়ে বলেছেন, এফওসির আলোচনার এজেন্ডায় যাই থাকুক, সব ধরনের উসকানি নিরসন করে উত্তেজনা কমিয়ে এনে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এবারের এ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিককালে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ইসকন নেতা চিন্ময়ের গ্রেপ্তারসহ অনেক বিষয় নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দৃশ্যমান হয়েছে। তবে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকেই এই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রত্যাশা রয়েছে। ফলে এফওসি একটি নিয়মিত বৈঠক হলেও এটার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। এর মধ্যে গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গতকাল রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রত্যাশার আভাস পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে ঢাকা প্রতিবেশী দেশের কাছে ন্যায্যতাও চায় এমনই বলছে সরকারপক্ষ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যে উঠে এসেছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক খারাপ হলে শুধু বাংলাদেশেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ভারতও ক্ষতির মুখে পড়বে।

উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘দুই-তিন মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায় যে মন্দা যাচ্ছে, সেটা কি শুধু বাংলাদেশকে এফেক্ট (ক্ষতিগ্রস্ত) করছে, না শুধু বাংলাদেশে এফেক্ট করছে না। বড় অর্থনীতির দেশ ভারতকেও এফেক্ট করছে। আনুপাতিকভাবে পরিমাণ হয়তো অত বেশি না, এফেক্ট কিন্তু করছে।’

তিনি বলেন, ‘সার্কের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি চান এটার মাধ্যমে আমরা আবার আঞ্চলিক সম্পর্কে ফিরে যাই। এটা হচ্ছে না, তবে এটা আমাদের শুরু করতে হবে।’

এদিকে গতকাল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা, জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে ভারতীয় দূতাবাসে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন। এদিন দুপুর সোয়া ১টায় ভারতীয় দূতাবাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ছয় প্রতিনিধি ওই স্মারকলিপি জমা দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত