ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব যেভাবে বাতিল হয়ে যায়

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৩৯ এএম

সুলাইমান আলী, পাবনা

প্রশ্ন : কিছুদিন আগে আমি এক মাছ বিক্রেতার কাছে একটি মাছের দাম জিজ্ঞাসা করলে সে ৪০০ টাকা মূল্যের মাছের দাম এক হাজার টাকা বলে। বিষয়টি টের না পেয়ে আমি ৮০০ টাকা বলে ফেলি। সে এতেও রাজি হয়নি। তাই আমি সেখান থেকে চলে আসি। কিছু দূর চলে আসার পর ওই দামেই মাছটি নেওয়ার জন্য সে আমাকে ডাকতে থাকে। এতক্ষণে চড়া দামের বিষয়টি আমার বুঝে আসে। তাই আমি আর তার ডাকে সাড়া দিইনি। সে আমার পিছু নেয় এবং আমাকে ধরে বলে, দরদাম ঠিক করে এখন নেবেন না কেন? তার চেঁচামেচিতে আশপাশের কিছু লোক জমা হলে তারাও একই কথা বলে। অবশেষে চড়া দামে মাছটি নিতে আমি বাধ্য হই। আমার জানার বিষয় হলো, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমার জন্য মাছটি নেওয়া কি আবশ্যক ছিল? এক্ষেত্রে মাছ কিনতে আমাকে বাধ্য করা কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর : প্রশ্নে উল্লিখিত ক্ষেত্রে আপনি মূল্য বলার পর মাছ বিক্রেতা যেহেতু আপনার প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং আপনি সেখান থেকে চলেও এসেছিলেন তাই ওই প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে। সুতরাং পরে সে ওই দামে মাছ দিতে চাইলেও তা আপনার জন্য নেওয়া আবশ্যক ছিল না। এক্ষেত্রে মাছ বিক্রেতার আপনাকে তা নিতে বাধ্য করা অন্যায় হয়েছে। এক্ষেত্রে বিক্রেতা যেহেতু চাপ সৃষ্টি করে কিছুটা প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত চড়া দামে মাছটি বিক্রি করেছে তাই মাছটির ন্যায্য দামই শুধু সে রাখতে পারবে। এর অতিরিক্ত যে মূল্য সে নিয়েছে তা ফেরত দেওয়া আবশ্যক। তা তার জন্য ভোগ করা জায়েজ হবে না। (হিন্দিয়া ৩/৭)

উল্লেখ্য, ক্রেতা যদি কোনো পণ্যের দাম জিজ্ঞাসার পর দর কষাকষি করে সেখান থেকে চলে যায়, তাহলে  ক্রয়-বিক্রয়ের মজলিস আর অবশিষ্ট নেই বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয়ের যে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। এখন তা আবার ক্রয় করতে চাইলে নতুনভাবে দামদর করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত