গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় স্বামী নজির হোসেনের (৭৫) মৃত্যুর খবর শোনার পর স্ত্রী রশিদা বেগম (৬৫) মারা গেছেন। মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবরে ওই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শত শত মানুষ উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস গ্রামে মৃত দম্পতিকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন।
নজির হোসেনের বাড়ি তালুক হরিদাস গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত নসিম উদ্দিন আকন্দের ছেলে। অবসরপ্রাপ্ত আনসার সদস্য নজির হোসেন বাড়িতেই কৃষি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এই দম্পতির পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়েসহ নাতি-নাতনি রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওশা আকন্দ। তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, এক সপ্তাহ আগে নজির হোসেন তার মেয়ের বাড়ি সদর উপজেলার হাট লক্ষ্মীপুর গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অসুস্থ হয়ে মারা যান নজির হোসেন। এ খবর নজির হোসেনের স্ত্রী জানতে পারেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়ির লোকজন অসুস্থ রশিদা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই তিনি মারা যান। পরে মেয়ের বাড়ি থেকে নজির হোসেনকে সাদুল্লাপুরে এনে স্বামী-স্ত্রীকে দাফন করা হয়।
নজির হোসেন আকন্দের নাতি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। এক সপ্তাহ আগে তিনি মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান, যেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দাদা ও দাদির মধ্যে গভীর ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন ছিল। স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ দাদি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এই শোক সইতে না পেরে, তিনি একই দিনে মাত্র ৪ ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়। তাদের এই বিদায় আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
