আ.লীগ আমলের মতোই মজুরি চেয়ে গুলিতে শ্রমিক নিহত হয়েছে: বজলুর রশিদ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৪১ পিএম

বগুড়ায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ১০৭তম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশের পূর্বে শহরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালী বের হয়।

র‍্যালী শেষে বিকেল সোয়া ৪টায় শহরের সাতমাথা মুক্তমঞ্চে সমাবেশে জেলা বাসদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টুর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ। জেলা বাসদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরীর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড আব্দুল কুদ্দুস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি সাইফুজ্জামান টুটুল, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট জেলা সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নিয়তি সরকার নিতু।

সমাবেশে কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, গত জুলাই-আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে ১৫ বছরের দুঃশাসনের বিপরীতে একটা গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অবসান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। আজকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৪ মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হচ্ছে। কিন্তু এখনো নিত্যপণ্যের বাজার উর্ধমুখী। সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে আছে। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ মব কিলিং বন্ধ হয়নি। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ হয়নি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলের মতোই মজুরি চাইতে গিয়ে গুলি খেয়ে শ্রমিক নিহত হয়েছে। অথচ '২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকরা অকাতরে জীবন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার এই অঙ্গীকার বুকে ধারণ করে ৩০ লাখ শহীদি আত্মদান ও ২ লাখ মা-বোনের লাঞ্ছনার বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হলেও গত ৫৩ বছরে শাসক গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ শাসন করায় মানুষের মুক্তি আসেনি। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকার- আলবদর পরাজিত হলেও গত ৫৩ বছরের ধনীক বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠী স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিয়েছে। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের আকাঙ্খা নিয়ে ১৯৯০ সালের সামরিক শাসনবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের অপূরিত স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য আবারো উর্ধে তুলে ধরেছে। অহেতুক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯১৭ সালের ৭ নভম্বর মহামতি লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়াতে দুনিয়ার বুকে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর ১৫ বছরের মধ্যে কমরেড স্তালিন দেখিয়েছিলেন কীভাবে সমাজ থেকে শোষণ, বেকারত্ব, ভিক্ষাবৃত্তি, পতিতাবৃত্তি দূর করা যায়। এই শিক্ষাকে ধারণ করে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষ শোষণমুক্তির আশায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়ছে। '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, '৯০ এর গণঅভ্যুত্থান ও ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ তথা সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নির্মাণের সংগ্রামকে বেগবান করা ছাড়া মুক্তির আর কোন পথ নেই তাই শুধু ক্ষমতার হাত দল নয় ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য শ্রমিক কৃষকসহ আপামর মেহনতি জনতার প্রতি আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত