মির্জা আজমের ব্যাংকে ৭২৫ কোটি টাকা লেনদেন

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৯ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজ যোগদান করেছেন। যোগদানের পর গতকাল ছিল বৃহস্পতিবার তাদের প্রথম কর্মদিবস। প্রথম দিনেই নবনিযুক্ত কমিশনের অনুমোদনক্রমে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ও তাদের স্ত্রীর বিরুদ্ধে ছয়টি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের অবৈধ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের বিরুদ্ধে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ও তার ছেলে রাহাত মালেকের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। এ ছাড়া সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি টাকার এবং সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদে অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তকালে আরও যেসব সম্পদের তথ্য পাওয়া যাবে সেগুলো চার্জশিটভুক্ত করা হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম ও স্ত্রী দেওয়ান আলেয়ার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির নামে ৬০টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৭২৫ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার ২৩২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা এবং মেয়ে মির্জা আফিয়া আজম অপির নামে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ ২২ হাজার ২৫২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

জাহিদ মালেক ও পরিবার : সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ এবং তার ছেলে রাহাত মালেকের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকাসহ ৭২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ৫৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ থাকায় মামলা করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানকালে জাহিদ মালেকের স্ত্রী শাবানা মালেকের নামে ৩ কোটি ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৮২৭ টাকা, পুত্রবধূ সাকিবা মালেকের নামে ৯ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৫ টাকা, মেয়ে সাদিয়া মালেকের নামে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, সিনথিয়া আকমলের নামে ২ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার ২৯৬ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য-উপাত্ত পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণীর নোটিস জারির সুপারিশ করা হয়েছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক : সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের নামে ৯ কোটি ৫৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকাসহ ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানকালে পলকের বিরুদ্ধে ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ৩২ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩১টি ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। এসব অর্থের গন্তব্য তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত