চট্টগ্রামের চুরির অপরাধে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধরে সাজ্জাদ হোসেন পারভেজ ওরফে লেদু (২৫) নামে সেই যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। মারধরের এক পর্যায়ে যুবকটির হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোচ দিয়ে জখমের স্থানে মরিচের গুঁড়োও লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। মারধরের কারণে গুরুতর আহত লেদু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় ঘটনার অন্তত ১৩/১৪ ঘণ্টা পর মারা যান।
গত ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ স্কুল মাঠ থেকে লেদুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে মারধরের ঘটনাটি ঘটে আগের দিন (মঙ্গলবার) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে একই উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মদনহাট এলাকায় মঞ্জুরুল ইসলাম সিনিয়র মাদ্রাসা মাঠে। নিহত লেদু চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা নিরঞ্জন মাস্টার বাড়ির আহমদ নুরের ছেলে।
লেদুকে হত্যার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন নিহত সাজ্জাদ হোসেন পারভেজ ওরফে লেদুর বড় বোন সালমা আক্তার। মামলার আসামি হিসেবে ফতেপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সেকান্দর হোসেনের ছেলে ওই মাদ্রাসার আলিম বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল নাঈম (১৯) এবং একই ইউনিয়নের মদনহাট এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে ওই মাদ্রাসার মসজিদের ইমাম মো. মুছা কাজেমকে (৩৭) বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তিন নম্বর আসামি একই ইউনিয়নের ফয়েজ উল্লাহ উকিল বাড়ির আবদুল কুদ্দুসের ছেলে মো. এরশাদ পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাটহাজারী থানার উপপদির্শক অরুণ আচার্য্য বলেন, ‘সামান্য মোবাইল ও সাইকেল চুরির অপরাধে ধরে নিয়ে মাদ্রাসায় গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় লেদুকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে লেদুর শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোঁচ দিয়ে তাতে মরিচের গুঁড়ো লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার যেকোনো সময় ওই মাদ্রাসার মসজিদের মুয়াজ্জিন আবদুল্লাহ আল নাঈমের (আলিম বিভাগের ছাত্র) বাসা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ও একটি সাইকেল চুরি করে লেদু। চুরির ঘটনা মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে।
একই দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১ নং রেলগেট এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে লেদুকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় মাদ্রাসা ছাত্র নাঈম। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে লেদুকে শনাক্ত করেন মসজিদের ইমাম মো. মুছা কাজেম। পরে ১ নং রেল গেইট থেকে লেদুকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্তত আধা কিলোমিটার দূরত্বে থাকা সিনিয়র মাদ্রাসায়। এরপর সেখানে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লেদুকে বেধড়ক পিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এক পর্যায়ে লেদুর ডান হাতে কাঁধের নিচে এবং পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোঁচ মেরে সেখানে মরিচের গুঁড়ো লাগিয়ে দেওয়া হয়।
মাদ্রাসার একটি সূত্র জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় লেদুর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে চট্টগ্রাম শহরগামী একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে চট্টগ্রাম শহরের দিকে দুই কিলোমিটার দূরে ফতেয়াবাদ এলাকায় এনে আহত লেদুকে নামিয়ে দেন অটোরিকশা চালক। এরপর রাতভর খালি গায়ে স্কুল মাঠের পশ্চিম পাশে গোলপোস্টের কাছে গড়াগড়ি করতে থাকেন। সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজনকে দেখে নির্যাতনের বর্ণনাও দেন লেদু। ৮টার দিকে স্থানীয় এক কৃষকের কাছে চেয়ে দুই গ্লাস পানিও পান করেন। এরপর মারা যান তিনি। খবর পেয়ে দুপুর ১২টায় স্কুল মাঠ থেকে লেদুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লেদুর লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।
মামলার বাদী সালমা আকতার জানান, নিহত সাজ্জাদ হোসেন পারভেজ ওরফে লেদু তার পিতা-মাতার পালক সন্তান। দশ বছর আগে বাবার সঙ্গে অভিমান করে ঘর থেকে বেরিয়ে আর বাড়ি ফিরেননি। অবশেষে ফিরেছেন লাশ হয়ে।
স্মার্ট ভূমি সেবায় ‘ফুলস্টপ’, দুর্ভোগ সাধারণের
জামিন পেলেন আল্লু অর্জুন
তাপমাত্রা আরও কমবে