ডুয়েটের ১৪ শিক্ষার্থীকে শাস্তির সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০৮ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এবং এর আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীকে আজীবনের জন্য হল থেকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) প্রশাসন।  ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আলাদা কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) জারি করেছে।

গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ডুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক এবং বোর্ড অব ডিসিপ্লিন (ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি)-এর সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাসের সই করা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের (শৃঙ্খলা কমিটি) এ বিষয়ে প্রথম সভা করে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি মোতাবেক ওই ১৪ শিক্ষার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। বৃহস্পতিবার ওই নোটিস ইস্যু করা হয়। কারণ দর্শানোর জবাবপত্র ইস্যুর সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বর্ণিত শাস্তি একতরফাভাবে কার্যকর করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ডিসিপ্লিন (ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি) এর সিদ্ধান্ত ক্রমে এ নোটিস জারি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই ১৪ শিক্ষার্থীরা হলেন, ডুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিঠুন, সাধারণ সম্পাদক পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান মান্না, সহ-সভাপতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের শিক্ষার্থী প্রতাপ কুমার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন রিফাত, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্দীকুর রহমান, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (টিই) বিভাগের শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসেন শাহীন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তুহিন, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুল আলম শান্ত, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (টিই) বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ প্রিন্স, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ মিয়া মাহিন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (টিই) বিভাগের শিক্ষার্থী তাসিন মাহমুদ ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) বিভাগের শিক্ষার্থী এমএম সায়মুন।

ডুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক এবং বোর্ড অব ডিসিপ্লিন (ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি) এর সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শেষে ১৪ শিক্ষার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিলে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বর্ণিত শাস্তি একতরফাভাবে কার্যকর করা হবে। অভিযুক্তের জবাব সন্তোষজনক হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত