ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী নির্যাতনের মামলা মীমাংসার সালিশে কথা–কাটাকাটির জেরে জাতীয় নাগরিক কমিটির তিন নেতাকে মারধরের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় নাগরিক কমিটি নাসিরনগর উপজেলার পূর্ব নির্ধারিত মতবিনিময় সভাস্থল থেকে আওয়ামী লীগ নেতার ২০২৩ সালের দায়েরকৃত আইসিটি অ্যাক্টের কালো আইনের মামলায় নাসিরনগরের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খোকনকে নাছিরনগর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঘটনা জানতে পেরে আমি নাগরিক কমিটির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আতাউল্লাহ, আসাদকে ছাড়াতে নাছিরনগর থানায় যায়। পুলিশ সুপারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে পুলিশ সুপার ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং এখন তা বিচারিক বিষয় বলে জানান। দ্রুত আদালতে আসতে হবে বিধায় আমাকে অবশ্য পুলিশের গাড়িতে করে থানা থেকে আদালতে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে নানান অজুহাত, তালবাহানা ও বিলম্ব করে বিকাল ৪.৫০টায় আদালত আসাদুজ্জামানকে জামিন দেয়। জামিনের পর বিকাল ৫ টায় আমি, আমার সহযোদ্ধা জেলা সংগঠক জিহান মাহমুদ, সদর উপজেলা সংগঠক হাসান নাছিমুল রাসেলকে নিয়ে আদালত ক্যান্টিনে দুপুরের খাবার খাই।
তিনি আরও বলেন, ক্যান্টিনের পাশেই ছিল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ। আদালত পাড়ার ক্যান্টিন থেকে বের হবার পথে কসবা উপজেলার আমার এক পরিচিত লোক (ফয়েজ) আমাকে পরিচয় করিয়ে দিবে বলে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে নিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মফিজুর রহমান বাবুল তার সাথে পরিচয় পর্বের মধ্যেই, তার ইশারাই আমাদের ওপর আক্রমণের নির্দেশ দেয়। পরে তার সাথে থাকা অ্যাড. মিনহাজ ও তার পিওন কবির, সাথে থাকা আরো কয়েকজন আইনজীবী ও কিছু সাঙ্গপাঙ্গ আমাকে মারতে শুরু করে। আমাকে বাচাঁতে জিহান মাহমুদ ও রাসেল এগিয়ে আসলে কক্ষের ভেতর তাদের মারতে মারতে রক্তাক্ত করে। হত্যার উদ্দেশ্যে মারতে মারতে একপর্যায়ে রুমের দরজা-লাইট বন্ধ করে দেয় বাবুল। কক্ষে আটকে থাকা অবস্থায় আমার ফেসবুক লাইভ থেকে জানতে পেরে আমাদের উদ্বার করতে এগিয়ে আসে আমাদের জেলার আন্দোলনকারী সহযোদ্ধা ও পুলিশ। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, এই মফিজুর রহমান বাবুল হলেন আওয়ামী লীগের জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জুলাই হত্যা মামলার একজন আসামি। হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে খালার পারিবারিক ঘটনা নামে মিথ্যা নাটক সাজায় আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল ও তার সহযোগী পুলিশ সুপার। উল্লেখ আমার মায়ের কোনো বোন নাই।
আতাউল্লাহ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা, বিচার ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে বিনষ্ট করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম আদালতের পর পরিকল্পিতভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজকোর্টে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি বলেন, উক্ত ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে। আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. মফিজুর রহমান বাবুল ও তার সহযোগী আওয়ামী দোসরদের আজকের মধ্যেই গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং মফিজ বাবুলসহ তার সাথে জড়িতদের বার কাউন্সিল সনদ বাতিল করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসি টিভি ফুটেজ উদ্ধার করে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনের পর তারা মামলা করবেন বলেও সাংবাদিকদের জানান।
এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও মফিজুর রহমান বাবুল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপারের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার মো. জাবেদুর রহমান বলেন, বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই উঠে না। আমি সরকারের চাকরি করি অন্য কারো না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয় জেলা সংগঠক জিহান মাহমুদ, জেলা প্রতিনিধি আক্কাস মীর, ঢাকা মহানগর সংগঠক মহিউদ্দিন খান, সদর উপজেলা সংগঠক হাসান নাজিমুল রাসেল, নাসিরনগর উপজেলা সংগঠক শ্রীদেবা রুমা, আশুগঞ্জ উপজেলা সংগঠক জয়ন্তি বিশ্বাস, নাসিরনগর সসদর উপজেলা সংগঠক আসাদুজ্জামান সুখন, সরাইল সংগঠক সালমান হায়দার, বিজয়নগর সংগঠক খাইরুল, সরাইল সদর সংগঠক বিন ইয়াসমিন, পরিচালনায় ছিলেন জেলা প্রতিনিধি মো. মোমিন ফোয়াদ।
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে যা বলল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ‘জয় বাংলা' স্লোগান লিখন
সারদায় প্রশিক্ষণরত ২৫ এএসপিকে শোকজ