শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে বিজয় উদযাপন

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০৫ এএম

সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। ৫৪তম মহান বিজয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধানরাসহ অনেকেই।

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে তিনি সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন।

এরপর সকাল সকাল ৭টা ১২ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা। বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং পরে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা। এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে ঢল নামে লাখো জনতার। এ সময় দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ^বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে দ্রুত সাভারের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে বাসায় ফেরেন তিনি।

এর আগে সকাল ৮টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের (জাবি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার গণ-আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারব না।’

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা বিনতে জিগার ফারিনা বলেন, ‘আমরা ৭১ দেখিনি, কিন্তু দেখেছি ২৪।’ গণহত্যার জন্য স্বৈরশাসক হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার করা না হলে ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি অবিচার করা হবে।’

সকাল ৯টায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব জোট, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ, জাতীয় আইনজীবী পরিষদ, জাতীয় পোশাক শিল্প শ্রমিক জোট (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা জেলা কমিটির নেতারা।

এ ছাড়া মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর-১ প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর-২ প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বঙ্গভবনে সংবর্ধনা : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি। বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যোগ দেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে গণমাধ্যমে বাণী দেন। গণমাধ্যমগুলোয় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়।

রাজারবাগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা-আইজিপির শ্রদ্ধা : মহান বিজয় দিবসে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। গতকাল সকাল সোয়া ৮টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। এ সময় একটি পুলিশ দল সশ্রদ্ধ সালাম দেয়। তখন বিউগল বেজে ওঠে।

প্রথমে পুলিশ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী। এরপর পুলিশের পক্ষে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আইজিপি বাহারুল আলম। সবশেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনসহ পুলিশের বিভিন্ন সংগঠন ও ইউনিটের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

৩১ বার তোপধ্বনিতে বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনী ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকা পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় (তেজগাঁও) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ৬টি গান ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গান স্যালুট প্রদর্শন করে।

বিজিবিতে বিজয় দিবস উদযাপন : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরসহ বাহিনীর সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। গতকাল বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজয় দিবসের কর্মসূচি অনুযায়ী সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সদর দপ্তরসহ অন্যান্য ইউনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রত্যুষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। সকাল শোয়া ৮টায় বিজিবির মহাপরিচালক মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পিলখানায় ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিজিবির একটি সুসজ্জিত দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

বাংলাদেশ-ভারতের সেনাবাহিনী কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। গতকাল আখাউড়া-আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টে এ সাক্ষাৎ হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কুমিল্লা এরিয়া মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চিফ অব স্টাফ, ১০১ এরিয়া মেজর জেনারেল সুমিত রানা উপস্থিত ছিলেন। আইএসপিআর আরও জানায়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দলের সদস্য হিসেবে তিনজন স্টাফ অফিসার এবং একজন অধিনায়ক পর্যায়ের বিজিবি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের সেনাবাহিনীর তিনজন কর্মকর্তা এবং অধিনায়ক পর্যায়ের বিএসএফ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা উপহার বিনিময় করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের শ্রদ্ধা : বিনম্র শ্রদ্ধায় সব শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। দিনটি উপলক্ষে আলোকসজ্জা, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ এবং শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়। ঢাকার মিরপুর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এ সময় অধিদপ্তরের পরিচালকরা, ট্রেনিং কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বায়তুল মোকাররমে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআনখানি ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. মুহিবুল্লাহিল বাকী। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও সারা বিশে^র শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, মো. মহিউদ্দিন, ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, উপপরিচালকরা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

জনসাধারণের জন্য কোস্ট গার্ডের ৭টি জাহাজ উন্মুক্ত : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জনসাধারণের জন্য সাতটি জাহাজ উন্মুক্ত করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গতকাল বাহিনীর মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি জানান, কোস্ট গার্ড ঢাকা জোনের অধীন জাহাজ ‘বিসিজিএস পোর্টেগ্রান্ডে’ (চাঁদপুর লঞ্চঘাট), ‘বিসিজিএস শেটগাং’ (মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট) পূর্ব জোনের ‘বিসিজিএস সৈয়দ নজরুল’ (পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম), ‘বিসিজিএস রূপসী বাংলা’ (বিসিজি বেইস চট্টগ্রাম) পশ্চিম জোনের ‘বিসিজিএস কামরুজ্জামান (মোংলা), ‘বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা’ (খুলনা) এবং দক্ষিণ জোনের ‘বিসিজিএস সোনার বাংলা’ (ইলিশা ঘাট, ভোলা) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।

ঢাবিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি : দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ভোরে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে কলাভবন, কার্জন হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র ও স্মৃতি চিরন্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক সংগঠন বাঁধনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন আবাসিক হলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়াসহ বিভিন্ন হল এবং আবাসিক এলাকার মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য দোয়া করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উপাসনালয়েও শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।

কারাবন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের সব কারাগারে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বন্দিদের জন্য গতকাল সকালে বিশেষ খাবারে ছিল খিচুড়ি ও ডিম, পায়েস, সেমাই এবং মুড়ি। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডাল ভুনা, ডিম, মিষ্টি, কোমলপানীয়, সালাদ ও পান-সুপারি। তবে রাতে ছিল প্রতিদিনের মতো সাধারণ খাবার।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনসারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : বিজয় দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। এ সময় হৃদয়ছোঁয়া সংগীত ও ব্রাস ব্যান্ডের সুরের মূর্ছনায় হাজারো ছাত্র-জনতার মধ্যে উন্মুক্ত পরিবেশনা এ বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত