মৌসুমটা ঠিক নিজের মতো করে তুলতে পারছে না বসুন্ধরা কিংস। তাদের সেই সর্বজয়ী রূপটা ধরা দিচ্ছে না। লিগ ও দুটি টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ৬ ম্যাচের চারটিতে জয়ের বিপরীতে দুটিতে হার কিংসের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। মোহামেডানকে হারিয়ে বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপ জয়ের পর লিগটা তারা শুরু করেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে। ফেডারেশন কাপের শুরুটা ব্রাদার্সের বিপক্ষে নড়বড়ে জয় দিয়ে। এরপরই লাগে বড় ধাক্কা। লিগ ম্যাচে কুমিল্লা হেরে বসে ১০ জনের মোহামেডানের কাছে। সেই ধাক্কা সামলে পরের ম্যাচে রহমতগঞ্জকে ঘরের মাঠে হারিয়েছিল ৪-১ গোলে। তবে মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপের ম্যাচে হারের লজ্জা পেতে হয়েছে ফর্টিস এফসির কাছে। কিংস অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়নদের ২-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে ফর্টিস। ঘরোয়া ফুটবলে নিজেদের মাঠে এটি কিংসের দ্বিতীয় হার।
কিংস অ্যারেনায় স্বাগতিকরা এর আগে হেরেছে একবারই। গত লিগে মোহামেডানের কাছে তাদের হারতে হয়েছিল। এরপর অবশ্য কক্ষে ফিরে কিংস খুব বেশি হোঁচট খায়নি নিজেদের মাঠে। সুবাদে গত মৌসুমে তারা গড়েছিল ট্রেবল জয়ের অনন্য রেকর্ড। সাফল্য মোড়ানো একটা মৌসুম কাটানোর পর অবশ্য কিংসে দলীয় শক্তি কিছুটা হলেও কমেছে। বিশেষ করে প্রত্যাশা মেটানো বিদেশি তারা এবার নিতে পারেনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে। এ সব কিছুর প্রভাবেই কিংসকে এখন আর সর্বজয়ী বলা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবারের খেলা দেখে তো হতাশই হতে হয়েছে কিংস সমর্থকদের। দ্বিতীয় শক্তির একাদশ সাজিয়েছিলেন রোমানিয়ান কোচ ভ্যালিরিউ তিতা। রাকিব হোসেন, ফরাসি স্ট্রাইকার জারেদ খাসা, তপু বর্মণের মতো নিয়মিতদের শুরুতে দিয়েছিলেন বিশ্রাম। আগের ম্যাচগুলোতে জ্বলে ওঠা ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক মিগেল ফিগেইরাকে দেখে ভীষণ ক্লান্ত মনে হয়েছে। মনে হয়েছে খেলাটা সেভাবে উপভোগ করছেন না। তো, এ রকম কিংসকে নিয়ে ফর্টিস খেলেছে উজ্জীবিত ফুটবল। শুরুর পাঁচ-সাত মিনিট বাদে পুরো ম্যাচেই ফর্টিসের খেলায় ছিল পরিকল্পনার ছাপ। শেষ দিকে জোড়া গোল আদায় করে নিয়ে কিংসকে হারানোর উৎসবটাও ফর্টিসের ফুটবলাররা করেছে, তা ছিল দেখার মতো। প্রথমবারের মতো সেরাদের হারানোর আনন্দটাই ছিল অন্যরকম।
ম্যাচের শুরুর অর্ধে কিংসের খেলায় কিছুটা হলেও ছিল গোল করার প্রবণতা। যেটা দ্বিতীয়ার্ধে একেবারেই উধাও হয়ে যায়। ফর্টিসের দেশি-বিদেশি মিশ্রণে গড়ে ওঠা আক্রমণভাগ চেষ্টা করেছে গোলের। প্রথমার্ধে না হলেও দ্বিতীয়ার্ধের অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা দুই গোল পায়। বিরতির পরপরই গোলের ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন ফর্টিসের তরুণ ফরোয়ার্ড পিয়াস আহমেদ নোভা। তবে পোস্টের সামনে সঠিক পজিশন নিতে না পারায় বলের নাগাল পাননি। ৭২ মিনিটে ফর্টিসকে এগিয়ে নেন উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ড জাসুর জুমায়েভ। ভ্যালেরি রিসেনের কর্নারে অনেকটা লাফিয়ে উঠে হেড করে এই ডিফেন্ডার বল জালে জড়িয়ে দেন। কিংস কিপার আনিসুর রহমান জিকো বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে তা রুখতে পারেননি। পাঁচ মিনিট পর ফর্টিসের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। পিয়াস আহমেদ নোভার পাস ধরে বক্সে ঢুকে আব্দুল্লাহ আগুয়ান জিকোকে পরাস্ত করে বল জমা করেন উন্মুক্ত পোস্টে। জয়ের ব্যবধানটা বাড়ানোর আরও দুটি সুযোগ ফর্টিস পেয়েছিল। সেগুলো থেকে অবশ্য ফরোয়ার্ডরা পারেননি গোল করতে। অন্যদিকে কিংসের মধ্যে গোল শোধের কিংবা ম্যাচে ফেরার মতো ফুটবলই দেখা যায়নি দ্বিতীয়ার্ধে।
‘এ’ গ্রুপে ফর্টিস চার পয়েন্ট নিয়ে আছে শীর্ষে। বসুন্ধরা কিংসের সংগ্রহ তিন। গ্রুপের অপর ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন রীতিমতো বিধ্বস্ত করেছে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে। গোপীবাগের দলটি মোস্তফা কাহারবা ও সাজ্জাদ হোসেনের হ্যাটট্রিকে ওয়ান্ডারার্সকে দেয় ৮-০ গোলের লজ্জা। ব্রাদার্সেরও সংগ্রহ দুই ম্যাচে ৩।
