২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:২৫ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে মানুষ আশা করতে পারে এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগের দিন সোমবার বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ধারণা দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ভোট কবে হবে তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে কতটা সংস্কার করে নির্বাচনে যাওয়া হবে, তার ওপর। মোটাদাগে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে হতে পারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যের পর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, রোডম্যাপ খুব স্পষ্ট দেওয়া হয়েছে। যদি কম সংস্কার হয়, সে ক্ষেত্রে ডিসেম্বরের (২০২৫ সালের) মধ্যে হতে পারে। উনি (প্রধান উপদেষ্টা) একটা আলোকপাত করেছেন। আর চূড়ান্ত তারিখ কী, এটা অনেক ক্ষেত্রে নির্ভর করবে সংস্কারের ওপর। তিনি একটা সময় দিয়ে দিয়েছেন। এর চেয়ে আর পরিষ্কার রোডম্যাপ কী হতে পারে? আপনি আশা করতে পারেন যে, নির্বাচন হচ্ছে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে।’

এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন, কবে মনোনয়নপত্র দাখিল হবে এগুলো নির্বাচন কমিশনের কাজ। সরকারের কাজ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা এবং নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠু হয়, এজন্য প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কারের জাতীয় দাবি আছে। রাজনৈতিক দল ও মানুষের পক্ষ থেকেও দাবি আছে।’

জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় জড়িতদের বিচার হবে উল্লেখ করে প্রেস ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘যাদের হাতে রক্ত আছে, তাদের বিচার হবেই। এখানে কোনো মাফ নেই। যারা গুমে জড়িত, তারা রাজনৈতিক দলের নেতা হোক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হোক, যে-ই হোক, তাদের বিচার হবে। এইটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন।’

কাদেরের দেশে থাকা-না থাকার প্রমাণ সরকারের হাতে নেই : সাবেক সড়ক পরিবহন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তিন মাস দেশের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন এবং পরে দেশ ছেড়েছেন এমন ঘটনার কোনো প্রমাণ সরকারের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ওবায়দুল কাদের ও মামলার আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেশত্যাগের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। অনেকগুলো বিষয় জানতেও পেরেছি। ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশে ছিলেন, নাকি ছিলেন না, সেই প্রমাণ সরকারের হাতে নেই।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পরের তিন দিন দেশে সরকার ছিল না। এক সপ্তাহ দেশে পুলিশ ছিল না। এ পরিস্থিতিতে অনেক কিছুই হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা দিয়েছে, ছাত্ররা রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তবে এতটুকু বলতে পারি, এ সরকারের দৃষ্টিতে যা ধরা পড়ছে তাই করছে।’

ইউজিসির নাম পরিবর্তন হচ্ছে : বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নাম পরিবর্তন হচ্ছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘মঞ্জুরি’ শব্দটা বাদ দিয়ে ‘ইউনিভার্সিটি কমিশন’ হবে। এটি নিয়ে অনেক বড় কাজ হবে। শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়টি যুগোপযোগী করা, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের মানোন্নয়ন করা, শিক্ষাকে দুর্নীতিমুক্ত করাসহ শিক্ষা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রেস সচিব।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত