টানা ৬ দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে পঞ্চগড়ে, জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:১২ এএম

পঞ্চগড়ের টানা ছয়দিন ধরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) একই সময়ে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকেই ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় উত্তরের এ জেলায় অব্যাহত রয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত প্রচণ্ড শীত পড়েছে এ অঞ্চলে। এলাকাটি হিমালয়ের নিকটস্থ হওয়ায় উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হিমেল হাওয়ায় বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের তীব্রতা। রাতভর প্রবাহিত হচ্ছে বরফের মতো ঠান্ডা। গত ছয়দিন ধরে ১০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ডের মধ্য দিয়ে উত্তরের হিমাঞ্চল জেলা পঞ্চগড়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গ্রামগুলোতে খড়কুটো, কাগজের কাটন, টায়ার জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে বেলা বাড়তে থাকলে কেটে যায় কনকনে শীতের প্রভাবও।

ঝলমলে রোদ দেখা মিলছে আজ সকাল থেকেই। ভোর থেকে রোদ উঠে যাওয়ায় বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বেলা বাড়তেই কমে যাচ্ছে শীতের তীব্রতা। সকাল সকাল কাজে বেড়িয়ে পড়েছেন দিনমজুর, পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, কৃষক থেকে বিভিন্ন নিম্ন আয়ের মানুষ।

শীতে বেড়েছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধি। প্রতিদিনই জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারাই কেবল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা চিকিৎসার পাশাপাশি শীতে সুরক্ষা থাকতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাাথ রায় জানান, আজ বুধবার তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তবে কুয়াশা নেই, ভোরেই দেখা মিলছে সূর্য। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

এদিকে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, জেলার শীতার্ত ও  গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দুই দফায় ১২ হাজার কম্বল ও স্থানীয়ভাবে কম্বল ক্রয় করে বিতরণের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব কম্বল ও অর্থ জনসংখ্যার ভিত্তিতে পাঁচটি উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত