চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মল্লিকপুরে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংঘ আয়োজিত বিজয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কাছে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে দুই কিশোর নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহতরা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খলসি গ্রামের এজাবুল হকের ছেলে মাসুদ রানা (২০) ও চাঁদপাড়া গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে রায়হান (১৪)। এর মধ্যে মাসুদ রানা নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্ট শাখার সভাপতি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ অফিশিয়ালি কোনো তথ্য জানায়নি।
জোড়া খুনের এই ঘটনাটি নাচোলের মল্লিকপুর গ্রামের পেয়ারা বাগানের শ্রমিক সালাম ও শাহীনের দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গতকাল বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ জানান, প্রায় ১২ থেকে ১৩ দিন আগে মল্লিকপুরের একটি পেয়ারা বাগানে পলিথিন বাঁধার কাজ করার সময় তুচ্ছ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় শ্রমিক সর্দার সালাম ও শ্রমিক শাহীনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মল্লিকপুর গরু হাটে শহীদ জিয়া সংঘ আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে আসা সালাম এবং তার লোকজনের ওপর অনুষ্ঠান শেষে সংলগ্ন মাছ বিক্রির ঘরে শাহীন ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্রসহ হামলা চালায়। এতে ছয়জন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাসুদ ও রায়হান মারা যান। মারাত্মকভাবে আহত খলসি গ্রামের জালালের ছেলে সুমনকে (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ে জড়িত মল্লিকপুর গ্রামের বাহার আলী ম-লের ছেলে আজিজুল হক (৫২) ও এজাবুলের ছেলে তাসিমকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। হত্যাকা-ে জড়িত সাত-আটজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
নাচোল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
