২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত হয়েছে। এ রায় বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। ৭৯ পৃষ্ঠা করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলার রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
এ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ১ ডিসেম্বর ২১ আগস্ট মামলায় ডেথ রেফারেন্স, আপিল, জেল আপিল ও অন্যান্য আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রায় দেয় বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। অধস্তন আদালতে ছয় বছর আগে দেওয়া রায় বাতিল করে হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৯ জনের সবাই খালাস পান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘এ মামলায় মুফতি হান্নানের (হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর) দ্বিতীয়বার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া ছিল বেআইনি।’
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দেশের ইতিহাসের একটি জঘন্য মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ন্যায্য ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য এ হত্যার যথাযথ, স্বাধীনভাবে তদন্ত করা দরকার, যা এ মামলায় অদ্যাবধি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় আমরা মনে করি, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এ মামলাটি যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত।’ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের আলোকে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য রায়ের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।’
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দলটির ২৪ জন নেতাকর্মী মারা যান। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ তিন শতাধিকের বেশি নেতাকর্মী আহত হন। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ১ রায় দেয়। রায়ে হত্যা ও বিষ্ফোরক আইনে বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান, বিএনপি নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। হাইকোর্টের রায়ে সবাই খালাস পান।
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামবে দুদক
বেসরকারি শিক্ষকদের শূন্যপদে বদলির নীতিমালা জারি