মেডিকেল ট্যুরিজমে বছরে শত শত কোটি ডলার হারাচ্ছে বাংলাদেশ

  • বাংলাদেশকে মেডিকেল ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তুলার দাবি
  • ২০২৩ সালে সাড়ে ৪ লাখ বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছেন 
আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৬ পিএম

মেডিকেল ট্যুরিজম কেবল অন্য একটি দেশে সেবা নেওয়া নয়, এটি একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং দুর্বলতার প্রতিফলন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া অর্থনৈতিক প্রভাব যতটা তীব্র, ততটাই উদ্বেগের।

আর তাই বাংলাদেশকে মেডিকেল ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তুলার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘চিকিৎসা সেবায় বিদেশমুখীতা: আমাদের উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ পরামর্শ দেন তাঁরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মেডিকেল ট্যুরিজমে বাংলাদেশ প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার হারাচ্ছে, যার বেশিরভাগই ভারতের দ্রুত-বর্ধনশীল স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করছে।

বক্তারা বলেন, মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটন বা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেওয়া একটি দেশের স্বাস্থ্যখাতের সেক্টরের ব্যর্থতা প্রকাশ করে। ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো পাওয়ার হাউস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যা পশ্চিমা খরচের ভগ্নাংশে অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রদান করে। 

বাংলাদেশ পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা বলেন, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল ট্যুরিজমের শিকারে পরিণত হয়েছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক অভিজাত শ্রেণীর লোক চিকিৎসার জন্য বাইরে যেত। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়া জোয়ারে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭০ জন বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি। এটা নিছক পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি আমাদের স্বাস্থ্যসেবা খাত নাগরিকদের চাহিদার সঙ্গে কতটুকু তাল মিলাতে পারছে তার ইঙ্গিত দেয়। 

বক্তারা আরও বলেন, এই চিকিৎসার জন্য বিদেশে গমনের অর্থনৈতিক প্রভাব যতটা তীব্র, ততটাই উদ্বেগের। বাংলাদেশ প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হারায়, যার বেশিরভাগই ভারতের দ্রুত-বর্ধনশীল স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করে। এই অর্থপ্রবাহ কেবল একটি আর্থিক বিষয় নয় এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের সমস্যা, যা দেশে উন্নত সুযোগ-সুবিধার অভাব থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী দুর্নীতি ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার মতো ঘাটতিগুলোকে সামনে আনে।

কিন্তু নাগরিকরা যখন উন্নত চিকিৎসার আশায় অহরহ দেশের বাইরে যায়, তখন দেশটির স্বাস্থ্যখাত সম্পর্কে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এটা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মূল কাঠামো ভেঙে পড়ছে বুঝায়। দেশের বাইরে রোগীদের এই ক্রমাগত প্রবাহ শুধু সিস্টেমের ঘাটতির প্রতিফলন নয়, বরং উপর্যপরি স্থানীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগগুলোর অপচয়ের একটি কঠিন বাস্তবতা। 

এ লক্ষ্যে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এছাড়া বাংলাদেশকে চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি মেধা ধরে রাখতে শক্তিশালী প্রণোদনা ব্যবস্থার পরামর্শ দেয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত