ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্বিষহ দিন কাটছে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৩৫ এএম

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকা-ের তিন বছর আজ। দুর্ঘটনায় এদিন প্রাণ হারিয়ে ছিলেন ৪৯ যাত্রী। ভুক্তভোগীর অনেক পরিবারই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিন কাটাচ্ছে চরম অনিশ্চয়তায়।

২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চ। ২৪ ডিসেম্বর ভোর রাতে লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌঁছায়। এ সময় অনেকেই গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন। হঠাৎ লঞ্চের ইঞ্জিনরুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা লঞ্চে। অনেকেই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচান। আগুনে পুড়ে নিহত হন লঞ্চের ৪৯ জন। ঘটনার পর ২৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অজ্ঞাতপরিচয়ের ২৪ জনকে দাফন করা হয় বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী গণকবরে। এই ২৪ জনের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় পরে শনাক্ত হয়েছে ডিএনএ টেস্টে। এ দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে কারও ভাই, কারও বোন, কারও মা-বাবা আবার কারও সন্তান।

ওই লঞ্চে অগ্নিকা-ের দিন নবজাতক সন্তানকে দেখতে বরগুনার আসছিলেন বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের রিয়াজ হাওলাদার। লঞ্চে অগ্নিকা-ে দগ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী রিয়াজ হাওলাদারকে হারিয়ে দুই সন্তান শ^শুর-শাশুড়ি নিয়ে এখন দুর্বিষসহ দিন কাটছে তার।

একই দুর্ঘটনায় বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া এলাকার সুমন সরদার হারিয়েছেন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। সেই স্মৃতি এখনো মনে পড়লে ঢুকরে কাঁদেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। স্ত্রী-সন্তান সবাইকে হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।’

বরগুনা নদী পরিব্রাজক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, ‘সুগন্ধা ট্রাজেডি বারবার মনে করিয়ে দেয় দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তহীনতার কথা। নৌযানগুলোতে যাত্রীদের সুরক্ষাসামগ্রী খুবই অপ্রতুল। দুর্ঘটনা মোকাবিলার জন্য এই পথে চলাচলকারী সব নৌযানে সুরক্ষাসামগ্রী বাড়াতে হবে।’

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘এত বড় লঞ্চ অগ্নিকা- দক্ষিণাঞ্চলবাসী আর কখনো দেখেনি। এমন অনেক পরিবার আছে যাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এই অগ্নিকা-ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নামমাত্র সহযোগিতা করা হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যেসব পরিবার অসহায় ও অস্বচ্ছল তাদের তালিকা করে সরকারিভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে দাবি করছি।’

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘নিহত-আহত প্রতিটি পরিবারকেই সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। তারপরও স্মরণকালের ভয়াবহ এই লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের অসচ্ছল, অসহায় পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত