ল্যাব বন্ধে ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৪২ এএম

বরিশাল বিভাগের প্রায় এক কোটি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নগরীর রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে সরবরাহকৃত পানির গুণগত মান যাচাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি বিভাগের একমাত্র পানি পরীক্ষাগারটি গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে দূষিত পানি পান করে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া, হেপাটাইটিসসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে।  সংশ্লিষ্টরা এজন্য বরিশাল নগর কর্র্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্লিপ্ততাকে দায়ী করেছেন। বরিশাল সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি টুনু রানী সরকার বলেন, ল্যাব বন্ধ থাকলেও বিকল্প উপায়ে পানি পরীক্ষা করা উচিত। বরিশাল সিটি করপোরেশন পানির বিল আদায় করছে, কিন্তু নিরাপদ পানি সরবরাহে তারা উদাসীন।

সচেতন নাগরিক কমিটি বরিশালের সভাপতি অধ্যাপক গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, পানি পরীক্ষার বিষয়ে নগর কর্র্তৃপক্ষ ও সরকারি সংস্থার দায়িত্ব আরও সচেতনভাবে পালন করা উচিত। তাদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে দিন দিন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। ঝুঁকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা শামীম হোসেন জানিয়েছেন, তার পরিবারের সবাই রূপাতলীর একটি রেস্তোরাঁয় নাশতা করার পর থেকেই পেটে ব্যথা ও ছেলের বমি-ডায়রিয়া শুরু হয়। পরে চিকিৎসকরা জানান, দূষিত পানি পানের কারণে পেটে ব্যাকটেরিয়া ঢুকেছে। শামীম বলেন, রেস্তোরাঁর পানিই এই বিপদের কারণ।

নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের লাইনের পানি এতটাই দূষিত যে গায়ে লাগালেও চুলকায়। এই পানিই অনেকে রান্না বা খাবারের জন্য ব্যবহার করেন।’ তিনি মনে করেন, সিটি করপোরেশন পরীক্ষা না করেই পানি সরবরাহ করছে, যা পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর প্রধান কারণ। বরিশাল নগরীর বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘গত ১০ বছরে সিটি করপোরেশনকে কোনো প্রতিষ্ঠানের পানি পরীক্ষা করতে দেখিনি। নিয়ম অনুযায়ী স্যাম্পল কালেকশন করে পানি পরীক্ষা করা উচিত।’

বরিশাল ছাড়াও ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি অঞ্চলের বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, তারা নদী ও খালের পানি ব্যবহার করেন, যা প্রায়ই দূষিত হয়। এ পানির কারণে শীত মৌসুমে শিশুদের ডায়রিয়া এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, টিউবওয়েলে পানি উঠছে না বলে মানুষ দূষিত পানি ব্যবহার করছে। এর ফলে টাইফয়েড, কলেরা, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগ বাড়ছে। তিনি মনে করেন, নিয়মিতভাবে পানির গুণগত মান পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মু. মনিরুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। চরাঞ্চলের মানুষ খালের পানি পান করে, যা প্রায়ই দূষিত।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল বলেন, পানি পরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৯টি প্রোডাকশন টিউবওয়েলের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগ বাড়ছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি পরিশোধনের উদ্যোগ চলছে।

বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ল্যাবের যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা বন্ধ রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যন্ত্রপাতি এলে ল্যাব চালু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত