বিএনপি কর্মীকে হত্যা মামলায় কারাগারে এসপি

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৫২ পিএম

কুষ্টিয়ায় ৫ বছর আগে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় বিএনপি কর্মী সুজন মালিথাকে হত্যা মামলায় কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এসপি তানভির আরাফাত কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা বিচার বহির্ভূত হত্যা মামলায় অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানার আদালতে হাজির হয়ে জামিনা আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তার জামিনা আবেদন নামঞ্জুর করে আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বর্তমানে সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজির দপ্তরে উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত আছেন। তার গ্রামের বাড়ি তার খুলনার খালিশপুর উপজেলায়। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল মালিথার ছেলে সুজন মালিথা (৩২) বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দলের কাজ করতেন। এতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের যোগসাজশে ও উস্কানিতে সুজন মালিথাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারই জের ধরে ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে দলীয় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা সকলে মিলে সুজন মালিথার বাসায় প্রবেশ করে এবং তাকে জোরপূর্বক বাসা থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। 

পরদিন সকালে সুজনের পরিবার জানতে পারে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উল্লিখিত আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে সুজন মালিথাকে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টায় কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন মোল্লা তেঘরিয়া পূর্ব ক্যানালের পাড়ে গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু সুজন মালিথার পরিবারের লোকজন আসামিদের কাছে উপস্থিত হয়ে সুজন মালিথাকে হত্যার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনও সদুত্তর না দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়।

পরে কুষ্টিয়া মিল লাইনের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নিহত সুজনের রাজনৈতিক বড় ভাই সুজন হোসেন গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে এসপি তানভির আরাফাতকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি করেন।

এ মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া মডেল থানার সাবেক ওসি নাসির উদ্দিন, একই থানার সাবেক ওসি এ কে এম মিজানুর রহমান, ওই থানার সাবেক এসআই সাহেব আলী, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ (কারাগারে), সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, দৌলতপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান টোকন চৌধুরী, কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের সভাপতি এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) চেয়ারম্যান সাইফুদ্দৌলা তরুন সাইফুদ্দৌলা তরুন (৪৮), কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব (৪৫), কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ আরিফুর হোসেন সজীব, কুষ্টিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কৌশিক আহমেদ ওরফে বিচ্ছু, জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি সোহাগ আলী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত