দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আরও চারজন মারা গেছে। মৃত্যুর এই সংখ্যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে এর চেয়ে বেশি, অর্থাৎ পাঁচজন মারা যান গত ১৮ ডিসেম্বর।
মৃতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তারা ২১-৭০ বছর বয়সী। তাদের মধ্যে একজন করে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
এ সময় নতুন করে আরও ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৪ জন পুরুষ ও ৫৯ জন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর বরিশাল বিভাগে ৩০ জন, খুলনায় ২৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০ জন, রাজশাহীতে ছয়জন, ময়মনসিংহে দুজন ও রংপুর বিভাগে একজন ভর্তি হয়েছে।
ভর্তি রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯ জনের বয়স ২১-২৫ বছরের মধ্যে। এরপর ২০ জন করে ১৬-২০ বছর ও ৩১-৩৫ বছর বয়সী, ১৬ জন ২৬-৩০ বছর বয়সী এবং ১২ জন করে ০-৫ বছর বয়সী ও ৩৬-৪০ বছর বয়সী রোগী রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ডেঙ্গুর এই তথ্য জানিয়েছে।
অধিদপ্তরের হিসাব, এ মাসের গত ২৬ দিনে ডেঙ্গুতে ৮১ জন মারা গেছে। এর আগে নভেম্বরে মারা যায় ১৭৩, অক্টোবরে ১৩৫, সেপ্টেম্বরে ৮৭, আগস্টে ৩০, জানুয়ারিতে ১৬, জুলাইয়ে ১৪, মে’তে ১২, জুনে ৮, মার্চে ৬, ফেব্রুয়ারিতে ৫ ও এপ্রিলে ২ মারা যায়।
এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মোট ৫৬৯ জন মারা গেল। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ নারী ও ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ। মৃতদের মধ্যে ৬৪ জন বা ১১ শতাংশ ০-১৫ বছর বয়সী শিশু। এরপর মৃত ৫৬ জন ২৬-৩০ বছর ও ৫০ জন ২১-২৫ বছর বয়সী। বাকিরা অন্যান্য বয়সের।
এ নিয়ে এ মাসে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯ হাজার ২৪২ জন। এটা বছরের চতুর্থ সর্বোচ্চ রোগী। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রোগী পাওয়া গেছে গত অক্টোবরে ৩০ হাজার ৮৭৯ জন। এরপর নভেম্বরে ২৯ হাজার ৬৫২ জন ও সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ৯৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।